
বিশাল রহমান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :- ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০ তম গ্রেডে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ কেলেংকারীর ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা গেছে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৭ টি শুন্য পদে গত ৩ আগষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। উক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি উক্ত পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানার দেহরক্ষী পুলিশ কনস্টেবল শফিকুল ইসলামের একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায় জেলাব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।প্রশাসন নিয়োগ কেলেংকারীর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে জেলা প্রশাসকের দেহরক্ষী শফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান,জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসায় তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিয়োগ কেলেংকারীর বিষয় নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানার সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
নিয়োগ কেলেংকারীর ঘটনাটি নিয়ে জেলাব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের তরুণ কলামিস্ট ও সমাজ চিন্তক আজমত রানা এ বিষয়ে বলেন, ডিসির দেহরক্ষীর একার পক্ষে এরকম বড় ধরনের দূর্নীতি করা অসম্ভব। এ ঘটনার নেপথ্যে যারা যুক্ত তাদেরও ধরতে হবে। তিনি অবিলম্বে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,ঠাকুরগাঁও ডিসি অফিসে নিয়োগ পরীক্ষার নামে যা হয়েছে তা হলো প্রহসন। লিখিত পরীক্ষার পর শুরু হয়েছে দেনদরবার। যারা দেনদরবার করেছেন তাদের চুড়ান্ত করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
এছাড়াও একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে নিয়োগে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও নাগরিক উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি সত্য প্রসাদ ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল করিম রুবেলও তদন্তের দাবি জানান। স্থানীয় সুশীল সমাজ অবিলম্বে ডিসি ইসরাত ফারজানাকে প্রত্যাহার করে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। উল্লেখ্য ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন লংঘন করে বেআইনি শতাধিক অবৈধ ইটভাটা চালাতে সহায়তার অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলাবাসী অবিলম্বে ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি ইসরাত ফারজানাকে প্রত্যাহার করে নিয়োগ দূর্নীতির ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানান।



