শিরোনাম
কুমিল্লা ইপিজেড সরকারী জায়গা অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদের দাবি এলাকাবাসীর কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বড় ঝুঁকিতে: আপিলে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অসঙ্গতি! কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে বিএনপি’র উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ কর্ণেল আকবরের পুত্র সায়মন যে বার্তা দিলেন হাজী ইয়াসিনকে ভোটকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে ভোট দেয়া নিশ্চিত করার জন্য অথোরটি চাইলেন : আইজিপি আওয়ামী মহিলা চেয়ারম্যান, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক- স্বামী ও স্ত্রীকে রক্ষার ঠিকাদারি নিয়েছেন মেম্বার, চেয়ারম্যানসহ সাংবাদিক চট্রগ্রাম ফটিকছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত-১ আহত-১ কুমিল্লার এক ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা গোলাম জিলানী টিটু – দেশ নিয়ে যা জানালেন তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ ইরানে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি!

ভোটকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে ভোট দেয়া নিশ্চিত করার জন্য অথোরটি চাইলেন : আইজিপি

Chif Editor

শিল্পী আক্তার, রংপুর ব্যুরো :- পুলিশের প্রাইমেসি প্রতিষ্ঠার জন্য ভোটকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে ভোট দেয়া নিশ্চিত করার জন্য অথোরটি চাইলেন পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম। তার দাবি , গ্রেফতার করলে যদি থানা ঘেরাও করে বসে থাকেন তাহলে আমার অথরোটি কোথায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেছেন, যদি অন্যায় করি তাহলে ধরেন আমাকে। কিন্তু ন্যায় কাজটা আমাকে করতে দেন।

শনিবার ( ১০ জানুয়ারী) বেলা সোয়া তিনটায় রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন তিনি। এসময় তার সাথে ছিলেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

ভোট দেয়ার নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরিতে পুলিশ কতটুকু এগুলো-সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আইজিপি বলেন, আমি পুলিশের প্রাইমেসি প্রতিষ্ঠার জন্য ভোট কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রাখার জন্য, নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার জন্য যে পরিবেশ তৈরি করতে হবে, তার জন্য তো আপনি আমাকে অথরিটি দিবেন? এখন এরেস্ট করলে আপনি ঘেরাও দিয়ে বসে থাকবেন, যে থানা থেকে তাকে ছাড়তে হবে? তাহলে তো আই ডুনট হেভি অথরিটি? আমি এটা চাই সবার কাছে। আপনাদের কাছ থেকে এটা চাই। যদি অন্যায় করি তাহলে ধরেন আমাকে। কিন্তু ন্যায় কাজটা আমাকে করতে দেন।

ডেভিল হাট-২ অপারেশনে বাঁধা পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইজিপি বলেন, ‘আমরা ১৩ ডিসেম্বর থেকে অপারেশন ডেভিল হান্ট- ফেুজ টু শুরু করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের অনেক সমালোচনাও আছে। অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অনেক প্রার্থী তারা বলছেন যে আপনার পুলিশ আমার কর্মীকে এরেস্ট করেছে। আমি নির্বাচনে কাজ করতে পারছি না। আমরা চেস্টা করছি যতটা সম্ভব অবজেকটিভিলি কাজ করতে। যিনি প্রটেনশিয়ালি একজন রিসকি থ্রেট, যিনি প্রটেনশিয়াল থ্রেট, ফরদি দিস ইলেকশন।

আমরা চেষ্টা করছি। তাকে আইনের আওতায় আনতে। তাকে গ্রেফতার করতে অথবা যদি কারো নামে মামলা থাকে এবং তিনি অপরাধী। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন থেকে উদ্ভুত মামলায় অনেক নাম দেয়া হয়েছে। যাদের অনেকেই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না। তাদের আমরা রিলিফ দেয়ার চেষ্টা করছি। সব থেকে বড় যেটা বিষয় সেটা হলো আপনাদের দেশবাসির সমর্থন চাই। এই পুলিশ তাদের মনোবলকে আপনারা সমর্থন দিয়ে উঁচু রাখবেন।
পুলিশের খোয়া যাওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের প্রশ্নে আইজিপি বলেন,পুলিশের খোয়া গেছে ৫ হাজার ৫০০রও বেশি অস্ত্র। এর মধ্যে এখনও ১ হাজার ৩৩০ টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ইন ডজনস, মানে শত শত আমরা উদ্ধার করতে পারছি না। একটা দুইটা করে উদ্ধার হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে যে এটা আমরা পুরোটা উদ্ধার করে ফেলতে পারবো। সেটা হয়ত বা সম্ভব হবে না। এর বাইরেও অনেক অবৈধ অস্ত্র আসছে। সেগুলোও উদ্ধার করা হচ্ছে। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে আজ ( ১০ জানুয়ারী) পর্যন্ত ২৫১ টি দেশি-বিদেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একটু একটু করে হচ্ছে। আপনাদের কাছ থেকেও অনেক খবর পেয়ে আমরা সেটা করছি। এটা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের বডি ক্যামেরা ক্রয় প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, সরকার এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় তারা যেন প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন, আমি যেটা শুনতে পেয়েছি যে সেটা তারা চেস্টা করছেন। হয়তোবা হয়ে যাবে। এর অতিরিক্ত আমরা যে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার এবং মধ্যম ধারণের ঝুঁকিপূর্ন ১৬ হাজার কেন্দ্রে মোট ২৪ হাজার কেন্দ্রের পুলিশের কাছে আমরা বডি ক্যাম দেয়ার একটা উদ্যোগ নিয়েছি। স্ব স্ব জেলার এসপি সাহেবরা বডি ক্যামগুলো কিনছেন এবং জেলা পর্যায়ে এর ওপরেও প্রশিক্ষণ চলছে। আমাদের সব চেষ্টাই একটি নির্বিঘ্নে সুস্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি করা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ইলেকশনের বিষয়ে পুলিশকে ট্রেনিং দেয়ার কারণ উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘ আমাদের নানামুখী তৎপরতা আছে আমরা পুলিশকে এক ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এই ইলেকশনটাকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ইলেকশন করার জন্য কখনও পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়নি। কারণ এর আগের ১৫ বছরে অনেক পুলিশ নতুনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং আগের পনেরো বছরের যে ইলেকশনগুলো ওনারা দেখেছেন। সেগুলোর ওপরে মানুষের আস্থা নাই। সেকারণে নির্বাচনে কীভাবে কাজ করতে হবে সে নিয়ে সকল পুলিশের স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। সেটা আমরা চেষ্টা করেছি এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে আমরা প্রশিক্ষণ দেয়ার টার্গেট নিয়েছি। গতকাল ( ৮ জানুয়ারী) পর্যন্ত আমরা ১ লাখ ৩৩ হাজার জনকে সেটা আমরা দিতে পেরেছি। আগামী ২০ তারিখের মধ্যে সবাইকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাপ্ত করতে পারবো।

এর আগে তিনি সেখানকার শৈলি ভবনে রংপুর মহানগর পুলিশ কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। পরে পুলিশ মেসে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নির্বাচন নিয়ে বৈঠক শেষে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে নির্বাচন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

Leave a Reply