
প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, পাবনা প্রতিনিধি :- পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ব্যক্তিগত আক্রোশ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার শিক্ষিকা হাসিনা হোসেন কে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে মোঃ মাসুদ রানার বিরুদ্ধে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর “কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানেন না বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক” এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। এর পরেই সংবাদটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মোঃ মাসুদ রানা দৈনিক কালের কণ্ঠের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি ও ছোট বিশাকোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। সেই সাথে ৭০,পাবনা-০৩ এর সাবেক এমপি আলহাজ্ব মোঃ মকবুল হোসেন এর বড় ছেলে সাবেক উপজেলা ও পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম হাসনাইন রাসেলের প্রেস উপদেষ্টা।
অভিযোগে জানা যায়,মোঃ মাসুদ রানা পূর্বে ২০১২ ও ২০১৫ সালে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) পদে আবেদন করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় কৃতকার্য না হওয়ায় তার চাকরি হয়নি। পরবর্তীতে সাবেক এমপি মোঃ মকবুল হোসেনের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ উপায়ে নিয়োগের দাবি জানানো হলে তা প্রত্যাখ্যান করে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটি। সে সময় ঐ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন এই কম্পিউটার শিক্ষিকার মামা শ্বশুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান হোসেন।
এ ঘটনার পর থেকেই সাংবাদিক মাসুদ রানা ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও তার পরিবারকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় বর্ণিত মানহানি অপরাধের আওতাভুক্ত বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিন জন শাখা শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করেন। তদন্তকালে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব নিয়ে কথা হয় এবং কয়েকটি কম্পিউটার অচল থাকায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান কে পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করার কথা বলা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐ সাংবাদিক মোঃ মাসুদ রানা একটি সংবাদ প্রকাশ করেন, যেখানে তথ্য বিকৃতি, মিথ্যা উপস্থাপন ও অনুমাননির্ভর অভিযোগ করা হয় বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি। সংবাদে বলা হয় ২০০২ সালে কম্পিউটার শিক্ষিকা হাসিনা হোসেন কে নিয়োগ দেওয়ার সময় তার স্বামী চেয়ারম্যান এবং তার ভাসুর পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন যা ঐ সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০২ সালে দেশে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল এবং ওই সময় হাসিনা হোসেন এর স্বামী কিংবা তার ভাসুর কেউই চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন না। ফলে প্রকাশিত সংবাদটি তথ্যগতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি তাদের।
এছাড়া সংবাদে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, ক্লাস না নেওয়া এবং কম্পিউটার পরিচালনায় অদক্ষতার অভিযোগ আনা হয়। তবে বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রধান শিক্ষক ও একাধিক সহকর্মীদের বক্তব্যে এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসিনা হোসেন ২০০২ সালে যোগদানের পর থেকে নিয়মিত পাঠদান করে আসছেন এবং কম্পিউটার বিষয়ে একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তার তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজ পর্যন্ত কেউ কম্পিউটার বিষয়ে ফেল করেনি।
সচেতন মহলের মতে, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন করে সঠিক তথ্য গোপন করে এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ সংবিধান স্বীকৃত পেশাগত নৈতিকতা ও তথ্য অধিকার আইনের পরিপন্থী। তারা অবিলম্বে মিথ্যা সংবাদের প্রত্যাহার, প্রকাশ্য প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কম্পিউটার শিক্ষক হাসিনা হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। এতে আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, তদন্ত বা অডিট চলাকালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়নি। কেবলমাত্র প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি কম্পিউটার অচল থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সেই বিষয়কে বিকৃত করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা এ ধরনের মিথ্যা সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মোঃ শওকত আলী বলেন, হাসিনা হোসেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও আদর্শ শিক্ষক। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন এবং প্রতিষ্ঠানের সব নিয়ম-কানুন মেনে চলেন। তার যোগদানের পর থেকে কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক। আজ পর্যন্ত কম্পিউটার বিষয়ে কেউ ফেল করেনি। তিনি একজন দক্ষ কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠানে সুপরিচিত।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত দল কেবল প্রতিষ্ঠানে কয়টি কম্পিউটার সচল এবং কয়টি অচল সে সংক্রান্ত একটি তথ্য প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে।
এ বিষয়ে ঐ সাংবাদিক মো. মাসুদ রানা বলেন, নিউজের সত্যতার বিষয়ে ওই শিক্ষিকার কাছেই জেনে নিন আমার কাছে অনেক এভিডেন্স আছে। নিজ প্রতিষ্ঠান রেখে অন্য প্রতিষ্ঠানের তদন্ত চলা অবস্থায় আপনি সেখানে কি করছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদ উত্তর না দিয়ে এ বিষয়ে সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।



