শিরোনাম
নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে আপন দুই ভাই গ্রেফতার, উদ্ধার ট্যাপেন্টাডল ও চোলাই মদ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন: জাবের বরিশাল-২ আসন: এনপিপির প্রার্থী স্বশিক্ষিত, মামলায় আক্রান্ত বিএনপির প্রার্থী গাইবান্ধায় জামায়াতের প্রার্থীসহ আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল সাভারে জুতা ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা, চোখ উপড়ে লিঙ্গ কর্তন ইসলামী আন্দোলনের ৯ জানুয়ারির মহাসমাবেশ স্থগিত বগুড়ার ৩ আসনে ৭ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল সাতক্ষীরা-৪: দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুর, ৪৫ জন কারাগারে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চাকুরী না পাওয়ার জন্য মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ

বরিশাল-২ আসন: এনপিপির প্রার্থী স্বশিক্ষিত, মামলায় আক্রান্ত বিএনপির প্রার্থী

Chif Editor

অনলাইন ডেস্ক :- বরিশালের ৬টি আসনের বিপরীতে ৪৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দাখিলকৃত ৪৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন।

দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের সঙ্গে থাকা প্রার্থীর হলফনামা অনুযায়ী বরিশাল-১ আসনে শুধু এনপিপির প্রার্থী স্বশিক্ষিত, আর বাকিরা সবাই কম-বেশি বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জনের চেষ্টা করেছেন।

অপরদিকে হলফনামা অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, যার মধ্যে কারও মামলা চলমান, কেউ আবার খালাস পেয়েছেন। তবে সব থেকে বেশি মামলা রয়েছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ এসএসসি পাস। পূর্বে তার পেশা ব্যবসা থাকলেও বর্তমানে তিনি রাজনীতি ও সমাজসেবা করেন। হলফনামায় দেওয়া ১৪টি মামলার মধ্যে ৮টি ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে।

তবে, চলমান থাকা ৬টি মামলার মধ্যে একটি উচ্চ আদালত হতে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে এবং দুর্নীতি দমন আইনে দায়ের হওয়া বাকি ৫টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।অপরদিকে প্রার্থীর বর্তমানে কোনো আয় না থাকলেও তার ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা, যা নির্ভরশীলদের পড়ালেখায় ব্যয় হয়। অস্থাবরের মধ্যে প্রার্থীর নিজের ১ কোটি ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭৩ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৯৫ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৫ টাকার সম্পদ রয়েছে। পাশাপাশি স্থাবরের মধ্যে ৮ কোটি ৪২ লাখ হাজার ৪১৪ টাকা ও স্ত্রীর ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।

সেই সঙ্গে নিজের না থাকলেও স্ত্রী নাসিমা আহমেদের নামে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৪৩ টাকার দায় রয়েছে। 

আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর করা বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) তরিকুল ইসলাম পেশায় একজন আইনজীবী। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা এবং নিজের ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ ৩৪ লাখ ২৬ হাজার ৪১০ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। সেই সঙ্গে ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ২৫০ টাকা স্থাবর সম্পদের মালিকও তিনি, তবে প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের আয় ও সম্পদের কোনো তথ্য হলফনামায় নেই।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মন্নান এমএসএস পাস এবং বর্তমানে কোনো পেশায় না থাকলেও পূর্বে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

২০১৫ সালের একটি মামলায় ২০২২ সালে বেকসুর খালাস পান তিনি, এর বাহিরে কোনো মামলার সঙ্গে জড়িত নন তিনি। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় আয় ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং নির্ভরশীলদের আয় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। নিজের ৩৪ লাখ ৪২ হাজার ৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার পাশাপাশি স্ত্রীর ৩২ লাখ ১০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। সেই সঙ্গে নিজের ৫০ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর ১৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া প্রার্থী নিজে ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ঋণ রয়েছে হাউজ বিল্ডিং করপোরেশনের কাছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন কামিল ডিগ্রিধারী এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। যার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া, মূল্য অজানা ৪০ ভরি স্বর্ণ ও লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য এবং আসবাবপত্র ব্যতীতও ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রার্থীর। পাশাপাশি স্থাবরের তালিকায় দুইশত শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে এই প্রার্থীর।

খেলাফত মজলিশের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান এমএসএস ডিগ্রিধারী এবং পেশায় একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। ইতঃপূর্বে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে দুটি মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রার্থীর নিজের বাৎসরিক আয় ৩ লাখ টাকা এবং নির্ভরশীলদের আয় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদে নিজের রয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার সম্পদ আর স্ত্রীর রয়েছে ২ লাখ টাকার গহনা। আর স্থাবরে একটি টিনশেড বাড়ি, কৃষি-অকৃষি জমি মিলিয়ে ৪৭ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে প্রার্থীর নিজের।

জাতীয় পার্টির এমএ জলিল এলএলবি পাস এবং পেশায় একজন আইনজীবী। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে যেটি তদন্তাধীন। প্রার্থীর নিজের বৎসরিক আয় ৫ লাখ ১ হাজার ৪৭৯ টাকা। এছাড়া ১০ ভরি গহনা ব্যতিত ৬ লাখ ২২ হাজার ৪৯৭ টাকার অস্থাবর এবং ৬৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক প্রার্থী।

গণঅধিকার পরিষদের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এমএসসি ডিগ্রিধারী এবং পেশায় একজন পরামর্শক। প্রার্থীর নিজের বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকলেও নেই কোনো স্থাবর সম্পদ।

বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) আবুল কালাম আজাদ এইচএসসি পাস এবং পেশা হিসেবে কৃষিকাজ ও রাখী মালের ব্যবসা করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি মামলাতেই বিগত দিনে খালাস পেয়েছেন। নিজ পেশা থেকে বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৭ টাকার অস্থাবর এবং ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক প্রার্থী।

জাতীয় পার্টির (জেপি) আ. হক এলএলবি পাস এবং পেশায় আইনজীবী। প্রার্থীর নিজের বাৎসরিক আয় ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া অস্থাবরে নিজের রয়েছে ৭০ হাজার টাকার সম্পদ, স্ত্রীর রয়েছে ২০ হাজার এবং নির্ভরশীলদের রয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার সম্পদ। অপরদিকে স্থাবর সম্পদে ওয়ারিশ সূত্রে যৌথ মালিকানার ঘরে রয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার টাকার সম্পদ। তবে এই প্রার্থী, তার স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলরা মিলিয়ে প্রায় ১০ টাকার ব্যক্তিগত দেনা রয়েছেন।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী সাহেব আলী স্বশিক্ষিত এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে দায়ের হওয়া একটি মামলা চলমান রয়েছে। প্রার্থীর নিজের বাৎসরিক আয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ৬১ হাজার ৫ শত টাকার অস্থাবর এবং ৩৫ লাখ ৩০ টাকা মূল্যের ১১০.১৫ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে স্থাবর সম্পদের হিসেবে।

Leave a Reply