শিরোনাম
মাগুরা গ্রুপের পক্ষ থেকে ১৫০০ হাজার শীতার্ত পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরন “কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থীর উঠান বৈঠক, খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা” লালমাইয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়ে আওয়ামী দোসর মাহামুদা আক্তার ও স্বামী আবু তাহের রনিকে বাঁচাতে মরিয়া ওরা কারা পাবনার ভাঙ্গুড়ায় কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল মধু জব্দ করে জন সন্মুখে ধব্বংস নিখোঁজের ১২ দিন পর মুরাদনগরে অটোচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরিষা ক্ষেতে ব্যস্ত মৌচাষিরা, কোটি টাকার মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা গঙ্গাচড়ায় গ্রোয়েন বাঁধ-কেটে তিস্তা চর লুটপাট, নদী ও জনপদ ধ্বংসের খেলায় সিন্ডিকেট নোয়াখালীতে ডাকাতির সময় গণধর্ষণ: গ্রেপ্তার ১ চুয়াডাঙ্গায় যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় আইএসপিআরের বিবৃতি কেন এনসিপি ছাড়লেন, জানালেন তাসনিম জারা

গঙ্গাচড়ায় গ্রোয়েন বাঁধ-কেটে তিস্তা চর লুটপাট, নদী ও জনপদ ধ্বংসের খেলায় সিন্ডিকেট

Chif Editor

শিল্পী আক্তার, রংপুর ব্যুরো :- রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার দক্ষিণ কোলকোন্দ এলাকায় তিস্তা নদীর তীর রক্ষায় নির্মিত গ্রোয়েন বাঁধ এখন নিজেই ধ্বংসের শিকার। সরকারি অর্থে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কেটে অবৈধভাবে বালুপাট করছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চরের জমির মালিক ও দখলদাররা টাকার বিনিময়ে মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরের মালিকদের বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দেয় এবং মাহিন্দ্রা চালকেরা সেই বালু সরাসরি তিস্তা নদীর চর থেকে তুলে বিক্রি করে।

এই অবৈধ চক্রের কারণে শুধু নদীর চর নয়, পুরো গ্রোয়েন বাঁধ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ার মুখে। গ্রোয়েন বাঁধ নদীর শ্রোতের তীর থেকে দূরে সরিয়ে মাঝনদীর দিকে প্রবাহিত করে, যাতে তীর-ভাঙ্গা রোধ হয় এবং নদীর পলি জমে জমি শক্ত হয়। দক্ষিণ কোলকোন্দ এলাকায় এটি নির্মাণ করা হয়েছিল বসতবাড়ি, কৃষিজমি, স্কুল, রাস্তা ও অবকাঠামো রক্ষার জন্য। কিন্তু এখন সেই গ্রোয়েন বাঁধই বালু লুটের সুবিধাজনক উৎসে পরিণত হয়েছে। বাঁধ থাকায় এখানে নদীর শ্রোত কম, পলি ও বালু জমে উঁচু চর তৈরি হয়েছে। আর সেই চরকেই কেটে-কুটে ট্রাক্টরে করে বালু লুট করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিস্তার চরের জমির তথাকথিত মালিক ও দখলদাররা মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরের মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়। এরপর মাহিন্দ্রা চালকেরা নদীর চর থেকে দিনের পর দিন বালু তুলে ট্রাক্টরে করে বিক্রি করে। কোলকোন্দ ইউনিয়নের মেম্বার লাল মিয়া বলেন, চরের মালিক টাকা খায়, ট্রাক্টর মালিক গাড়ি বালু তোলে,সবাই লাভ করে। ক্ষতি শুধু আমাদের ঘর-বাড়ি আর গ্রোয়েন বাঁধের। যতক্ষণ পর্যন্ত এই চরের মালিক ও দখলদারদের নামে সরাসরি মামলা না হবে, ততক্ষণ এই অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোলকোন্দ গ্রোয়েন বাঁধ সংলগ্ন তিস্তা নদীর চরে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় বালু বোঝাই মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর আটক করতে গেলে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং সরকারি কাজে বাধা দেয়। একজন আসামিকে আটক করা হলেও ট্রাক্টর ও চালকসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এবং দণ্ডবিধির ধারায় মামলা হয়।
দক্ষিণ কোলকোন্দ গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, পুলিশের ওপর হামলার মতো গুরুতর মামলার পরও অভিযুক্তরা সেই দিনে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আবার আগের মতোই বালু উত্তোলন শুরু করেছে। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দক্ষিণ কোলকোন্দ গ্রামের নূর আমিন বলেন,যারা পুলিশের গায়ে হাত তুলেছে, তারা এখন আবার নদীতে ট্রাক্টর নামিয়ে বালু তুলছে। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের হত্যার হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির চেয়ারপার্সন ফরিদুল ইসলাম বলেন,দক্ষিণ কোলকোন্দ এলাকায় এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল মূলত জন-বসতি, কৃষিজমি ও অবকাঠামো রক্ষার জন্য। গ্রোয়েন বাঁধ কেটে বালু লুট করা মানে পরিকল্পিতভাবে একটি জনপদকে নদীর মুখে ঠেলে দেওয়া। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়। যারা বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন,এই গ্রোয়েন বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিস্তা নদীর প্রবাহের দিক বদলে যেতে পারে। এর প্রভাব শুধু দক্ষিণ কোলকোন্দ নয়, বিস্তীর্ণ এলাকা এমনকি রংপুর শহর পর্যন্ত পড়তে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু শ্রমিক বা চালক নয়,চরের জমির মালিক, দখলদার, মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরের মালিক ও চালক এই পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রোয়েন বাঁধ অবিলম্বে সংস্কার না করলে আসন্ন বর্ষায় দক্ষিণ কোলকোন্দসহ বৃহত্তর রংপুরে ভয়াবহ নদীভাঙন ও মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

Leave a Reply