
নিহত সাগর বেপারী মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জসিম বেপারীর ছেলে। তিনি ঘটকচর এলাকার একটি গুচ্ছগ্রামে স্ত্রী ও দুই ছেলে আব্দুল্লাহ (৭) ও ইউসুফ (৩)কে নিয়ে বসবাস করতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার তাগিদে সাগর প্রথমে ভ্যানগাড়ি চালাতেন। প্রায় তিন বছর এ পেশায় থাকার পর যাত্রী সংকট দেখা দিলে তিনি একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক কেনেন। ইজিবাইক চালিয়ে সংসারের খরচ মেটানো এবং সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় বহনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। তবে সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়ন হলো না। দুর্ঘটনায় ইজিবাইকটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং ঋণের কিস্তির বড় একটি অংশ এখনো অপরিশোধিত রয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঘটকচর এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে মস্তফাপুরের দিকে যাওয়ার পথে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইকটিকে চাপা দেয়। এতে সাগর বেপারীসহ ৭জন নিহত হয়।
নিহতের ফুপু রেহেনা বেগম বলেন, “সাগর খুবই ভদ্র ও শান্ত ছিল। কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করত না। এত অল্প বয়সে এভাবে চলে যাবে, ভাবতেই পারিনি।”
নিহতের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, “সংসার চালানোর জন্য কিস্তিতে ইজিবাইক কিনেছিল। এখন আমার দুটি ছোট ছেলে আছে। স্বামী নেই, আয় নেই, ঋণের বোঝা আছে। আমি কীভাবে বাঁচবো বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, একই দুর্ঘটনায় মোট সাতজন নিহত হন এবং অন্তত ১০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ইজিবাইক চালক ছিলেন সাগর বেপারী।



