মিরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ নিয়ে যা বললেন বাড়ির মালিক

Chif Editor

অনলাইন ডেস্ক :- রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ঘটনায় জামায়াতের অন্তত ১৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে।

জামায়াতের স্থানীয় নেতারা দাবি করেন, ভোট চাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি বাসায় গেলে জামায়াতের তিনজন নারী কর্মীকে বিএনপির লোকজন হেনস্তা করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাদের ১৬ জন আহত হন। তারা আরও অভিযোগ করেন, হামলার মুখে জামায়াতের কর্মীরা একটি মসজিদে আশ্রয় নিলেও সেখানেও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

ঘটনার শুরু যে বাসা থেকে সে বাসার বাড়ির মালিক বলেন, তার স্ত্রী একা বাসায় থাকার সময় কয়েকজন নারী দরজায় নক করে জানতে চান তারা ওই এলাকার ভোটার কি না। পরে তারা ভোটার আইডি ও ফোন নম্বর চান। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে ওই দুই নারী দ্রুত চলে যান। তিনি জানান, নিরাপত্তার শঙ্কা থেকেই তার স্ত্রী প্রতিবাদ করেছিলেন।

uuu

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে তিনি বলেন, মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন এখন আর নেই।

তিনি আরও বলেন, ধরে নেওয়া যাক আমাদের কেউ যদি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে থাকে, তাহলে তার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা এই নোংরা মবের নিন্দা জানাই। মানুষ এখন সচেতন। সবাই জনগণের কাছে নিজের আদর্শ ও অঙ্গীকার নিয়ে যাবে, জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে বিশ্বাস করবে।

অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, জামায়াতের কয়েকজন নারী কর্মী ওই বাসায় গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও বিকাশ নম্বর চাইছিলেন, যা ব্যক্তিগত তথ্য এবং বাইরের কাউকে দেওয়ার মতো নয়। তাদের প্রশ্ন করা হলে নারী কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার শুরু হওয়ার আগেই এভাবে ভোট চাওয়া নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

Leave a Reply