
আমি দৃঢ়ভাবে ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সাম্প্রতিক মিথ্যা অপপ্রচার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কুৎসা এবং ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ঘৃণ্য অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সিলেটে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জনসমাবেশ ছিল জনসমর্থনের এক সুস্পষ্ট ও অস্বীকার্য প্রমাণ। সেই অভূতপূর্ব জনস্রোতই একটি ইতিহাস স্বীকৃত গাদ্দার রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা আশ্রয় নিয়েছে পুরোনো ও জঘন্য কৌশলে— মিথ্যা অপবাদ, বিকৃত ব্যাখ্যা এবং ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে চরিত্র হননের অপচেষ্টায়।
ফতোয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট :
সিলেটের সমাবেশে তারেক রহমান কোনো ফতোয়া দেননি, ফতোয়ার দাবি করেননি, কিংবা নিজেকে মুফতি হিসেবে উপস্থাপনও করেননি। তিনি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ হাজীকে সম্মান দিয়ে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন করেছেন— দুনিয়া, আখেরত ও বেহেশতের মালিক কে— যার উত্তর ছিল একটাই : আল্লাহ।
এরপর “বেহেশতের টিকিট” সংক্রান্ত প্রশ্নটি ছিল একটি জনসচেতনতামূলক প্রশ্ন, কোনো ধর্মীয় রায় নয়। সেখানে ফতোয়ার লেশমাত্র নেই। তবুও পরিকল্পিতভাবে এটিকে ‘ফতোয়া’ বলে প্রচার করা হচ্ছে, যা স্পষ্ট মিথ্যাচার এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা।
দ্বৈত মানদণ্ড ও ভণ্ডামির নগ্ন প্রকাশঃ
যারা আজ ফতোয়ার প্রশ্নে তারেক রহমানকে আক্রমণ করছে, তাদেরই শীর্ষ নেতা অতীতে প্রকাশ্যে ‘পকেটমারা জায়েজ’ বলে বক্তব্য দিয়েছেন—যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে বিদ্যমান। তখন ফতোয়ার প্রশ্ন ওঠেনি, যোগ্যতার প্রশ্ন ওঠেনি।
প্রশ্ন তাই অবশ্যম্ভাবী—
তিনি কোন মাদ্রাসা থেকে ইফতা করেছেন?
তার ফতোয়ার সনদ কোথায়?
কোন যোগ্যতায় তিনি ধর্মীয় রায় দেন?
তারেক রহমান প্রশ্ন করলেই অপরাধ, আর তারা নিজেরা ফতোয়া দিলে তা বৈধ—এই দ্বিচারিতা রাজনৈতিক ভণ্ডামির জ্বলন্ত প্রমাণ।
‘বেহেশতের টিকিট’ বাণিজ্য ও আল্লাহর ক্ষমতার প্রতি বেয়াদবিঃ
আজ যারা মুখে বলছে তারা কখনো বেহেশতের টিকিটের ব্যবসা করেনি, তাদেরই কেন্দ্রীয় নেতা প্রকাশ্য বৈঠকে কর্মীদের জিজ্ঞেস করেছে—“কে কে বেহেশতের টিকিট পেয়েছেন?”
এই ধরনের বক্তব্য কি আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ নয়?
তারেক রহমান এই অসংগতির দিকেই প্রশ্ন তুলেছেন। আর সেখানেই গাদ্দারদের গায়ে আগুন লেগেছে।
বিএনপির নীরবতা: দুর্বলতার বিপজ্জনক বার্তাঃ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই সুস্পষ্ট মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় বিএনপির পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিবাদ না আসা। এই নীরবতা প্রজ্ঞা নয়, এই নীরবতা দুর্বলতার প্রকাশ।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—এই গোষ্ঠী নীরবতাকেই “স্বীকারোক্তি” বানিয়ে সহানুভূতির রাজনীতি করে। অতীতেও করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। খালেদা জিয়ার আইসিইউ সংক্রান্ত কুৎসিত গুজব তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ।
এই প্রতিবাদ স্পষ্ট ঘোষণা দিচ্ছেঃ
আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই—
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ‘ফতোয়া’ সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক চরিত্র হনন।
ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করার এই নোংরা কৌশল আমরা প্রত্যাখ্যান করি।
এই অপপ্রচারের দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট গাদ্দার গোষ্ঠীর।
এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার না হলে ভবিষ্যতে এর মূল্য রাজনৈতিকভাবে আরও চড়া দামে দিতে হবে।
লেখক :- ডা. বশির আহাম্মদ
চিকিৎসক, সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী।



