
লেখক: মো: হাসিবুল্লাহ হাসিব, ওসি ডিবি নওগাঁ :- শুক্রবার। জুমার দিনের স্বস্তি, পাঞ্জাবি পরে নামাজের প্রস্তুতি—ঠিক সেই সময়ই আসে ফোন। জেলা পুলিশ সুপার-এর নির্দেশ। মুহূর্তেই বদলে যায় দিনের পরিকল্পনা। পাঞ্জাবি খুলে শুরু হয় অভিযান। নামাজ, পরিবার, বিশ্রাম—সব কিছু পেছনে ফেলে আবার রাস্তায় ডিবি নওগাঁ।
২৩ জানুয়ারি গভীর রাতে বদলগাছি থানাধীন এলাকায় ধান বোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ট্রাকসহ চালক ও হেলপারকে হাত-পা বেঁধে অপহরণ করে ডাকাত দল। খবর পেয়ে ডিবি নওগাঁ মাঠে নামে। কীর্ত্তিপুর এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি হুডি জ্যাকেটের অংশ উদ্ধার করা হয়—যা পরবর্তীতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হয়ে ওঠে।
অভিযানের সূত্র ধরে বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় সন্দেহভাজন অবস্থায় ট্রাকসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন ডাকাত দলের সদস্য—প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তা স্পষ্ট হয়। উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনজনকে ডিবি নওগাঁর হেফাজতে আনা হয়।
এরপর শুরু হয় টানা অভিযান—বগুড়া থেকে গাইবান্ধা, গাইবান্ধা থেকে গোবিন্দগঞ্জ। “আলুর ব্যাপারী” পরিচয়ে কৌশলী ছদ্মবেশ, মোবাইল কল ট্র্যাকিং, তথ্যদাতার ইঙ্গিত—সবকিছু মিলিয়ে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে ডাকাত চক্রের দেয়াল। একে একে শনাক্ত হয় ‘এস্কাপনের সাহেব’, ‘গোলাম’, ‘দশ কড়া’, ‘চিরা গোলাম’সহ চক্রের সদস্যরা। গভীর রাত, ঘুটঘুটে অন্ধকার বস্তি এলাকা। কোনো অস্ত্র নয়—ভরসা শুধু সৎ সাহস, অভিজ্ঞতা আর টিম স্পিরিট। গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় ডাকাত চক্রের মূল সদস্যদের। পরবর্তীতে ঢাকায় পাঠানো টিম সাভার ও কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও আলামত।
টানা দু’দিন দু’রাত ঘুমহীন পরিশ্রমের পর মোট ৬ জন সক্রিয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি নওগাঁ। উদ্ধার হয় ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাকের কাগজপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
অভিযানের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলা পুলিশ সুপার ডিবি টিমকে ধন্যবাদ জানান এবং অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তার জন্য ২০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন।
অভিযান শেষে গভীর রাতে অফিসে বসেই শেষ হয় কাগজপত্রের কাজ। ভোরের আলো ফোটার আগে বাড়ি ফেরা। ক্লান্ত শরীর, ক্ষুধা আর ঘুমের লড়াই। পরিবারের মুখ এক নজর দেখে অবশেষে ঘুম—মশারীর ভেতর নয়, দায়িত্বের ভারে ঢলে পড়া এক যোদ্ধার ঘুম।
এভাবেই চলছে—
ডিবি নওগাঁ
আপনাদের পাশে
২৪ ঘন্টা, সপ্তাহের সাত দিন।



