
অনলাইন ডেস্ক :- রাজনীতিতে স্থায়ী কোনো শত্রু-মিত্র নেই। রাজনীতির বহুল প্রচলিত এই উক্তিটির বাস্তব চিত্র যেন ফুটে উঠেছে টাঙ্গাইল জেলার ৮টি সংসদীয় আসনে। জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বিএনপি। আর আওয়ামী লীগ ও কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কর্মীদের আদর্শিক ও রাজনৈতিক শত্রু ছিল জামায়াত।
টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) বিএনপির সখিপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শাজাহান সাজু ৫ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সখিপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শওকত শিকদার ও পলাতক থাকা সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয় দলটির কর্মী ও সমর্থকদের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের পক্ষে ভোট চেয়ে ফোন করছেন।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী সংগঠনটির জেলা শাখার সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। অভিযোগ রয়েছে, টাঙ্গাইল সদরের সাবেক সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সাবেক সংসদ সদস্য ছোট মনির ও খান পরিবার সংশ্লিষ্ট জেলা নেতাদের একাংশ সর্বশক্তি নিয়োগ করে মাঠে নেমেছে ধানের শীষকে পরাজিত করতে। আবার কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগের একাংশকে টুকু নিজের পক্ষেও ব্যবহার করছেন। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির নেতারা প্রকাশ্যেই একে অন্যকে আওয়ামী লীগের কর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের পক্ষে মাঠে কাজ করার অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে ভারতে অবস্থানরত টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের এক নেতা বাংলানিউজকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগ বহুধা বিভক্ত। বিভিন্ন গ্রুপ তাদের নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন আসনে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে সদরে টুকুকে (বিএনপির প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু) হারাতে মোটামুটি সবাই একমত। এছাড়া আরও কয়েকটি আসনে যার যার সুবিধা অনুযায়ী কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। টুকু নিজেও আওয়ামী লীগের অনেকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন।
এছাড়া টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি নেতা ফকির মাহবুব আনাম স্বপনকে হারাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোটের মাঠে নামার অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবদুল্লাহেল কাফী। জেলার এ আসনটি নিজেদের করে নিতে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছেন জেলা জামায়াতের নেতারা।
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রিজভী আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, নীতিহীন রাজনীতির শ্রেষ্ঠ উদাহরণ জামায়াত। এরা নিজেদের স্বার্থে কখন কী করে তা অনুমান করা অনিশ্চিত। এদের যারা ফাঁসি দিল, নির্যাতন করল এখন ভোটের জন্য সেই ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসীদের তারাই আবার পুনর্বাসন করছে। জনগণ এবার ভোটের মাধ্যমে জামায়াত নামক নব্য গুপ্ত ফ্যাসিস্টদের শিক্ষা দেবে।
এদিকে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনেও আওয়ামী লীগের কর্মীদের ধানের শীষের প্রার্থী ওবায়দুল হক নাসিরের বিপক্ষে ও স্বতন্ত্র প্রার্থী লুৎফর রহমান আজাদের জন্য ভোটের মাঠে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। ধানের শীষের বিএনপির প্রার্থী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম ওবায়দুল হক নাসির অভিযোগ করেন, সাবেক এমপি আমানুর রহমান রানার পিএস টেলিফোনে ও টাকা বিলিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীদের ধানের শীষের বিরুদ্ধে সংগঠিত করছেন। সাবেক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ সম্পর্কে চাচা ও ভাতিজা। আওয়ামী লীগ সংযোগ, বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট, এসডিএস কেলেঙ্কারি ও বিগত কয়েকদিনে বিভিন্ন ইউনিয়নের সাবেক বিএনপির নেতা-কর্মী ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী এ প্রার্থী। আজাদ বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও ঘাটাইলের নির্বাচন এখন আওয়ামী লীগের ‘বি’ টিম স্বতন্ত্র প্রার্থী বনাম বিএনপির ধানের শীষ নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) বিএনপির প্রার্থী এস এম ওবায়দুল হক নাসির বাংলানিউজকে বলেন, সারা দেশে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। আমি প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি উঠান বৈঠক করছি। ঘাটাইলের এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে আমি যাইনি। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখের নির্বাচনে সারা দেশের মতো ঘাটাইলেও ধানের শীষ প্রতীকে জনগণ ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন।
এছাড়া টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) ও টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার), টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূয়াপুর) আসনে বিএনপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহী না থাকায় বিএনপির প্রার্থীদের জয় কেবল নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন জেলার রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।



