
সরকার ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় সিরাজগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনে এখন চলছে শেষ পর্যায়ের প্রচারণা। প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি মাইকিং, নির্বাচনী সভা ও গণসংযোগসহ নানা কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাঠে থাকলেও একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জে এবার দৃশ্যমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। ছয়টি আসনেই বিএনপি-জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নির্বাচনী প্রচারণা ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জে বিএনপিকে এবার জামায়াতের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) এবং সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে লড়াই বেশি জমে উঠেছে।
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম. আকবর আলীর বিপরীতে মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। উভয় পক্ষই জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলে এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। এখানে বিএনপির প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিম। তবে ১১ দলীয় জোটের সমঝোতার কারণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে এনসিপির প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত মেজর মনজুর কাদের এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংকের কারণে এই আসনেও প্রতিযোগিতা কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেলায় জামায়াতে ইসলামীর চারটি আসনে সরাসরি প্রার্থী রয়েছে। বাকি দুই আসনে জোটগতভাবে তারা সমর্থন দিয়েছে। সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুর রউফ এবং সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে এনসিপির প্রার্থী এস এম সাইফ মোস্তাফিজকে সমর্থন করছে জামায়াত।
নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধবিরোধিতা ও নারী বিদ্বেষের অভিযোগ তুলে ধরছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ করে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।
বর্তমানে সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনে মোট ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও অন্যান্য দল নির্বাচনী মাঠে রয়েছে, তবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রচারণাই বেশি চোখে পড়ছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে দুই দলই দিনরাত প্রচারণা চালাচ্ছে।
জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ জন।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিএনপির ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করেছে। জনগণ তাদের অতীত জানে এবং ব্যালটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি দাবি করেন, সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনেই বিএনপি জয়লাভ করবে।
অন্যদিকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। এ কারণে ভোটাররা এবার দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


