শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জ শেষ মুহূর্তে বাজিমাত করতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কড়া নাড়ছে ঘরমুখো মানুষের ডল, এই নির্বাচনকে ঘিরে আড়াইহাজারে জামায়াত প্রার্থীর এজেন্ট মাহবুবুর রহমান নিখোঁজ থানায় জিডি নির্বাচনের আগে সিএনজির দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৫০ লাখ টাকাসহ জামায়াতের আমির গ্রেফতার কার্ড ইস্যুতে টালবাহানা: ক্ষুব্ধ বরিশালের সাংবাদিক সমাজ জামায়াত নেতার গাড়িতে স্থানীয়দের তল্লাশি, ২ লাখ টাকা উদ্ধারের অভিযোগ ভোটকেন্দ্রে যারা নাশকতা করতে আসবে, ঝুঁকি তাদেরই: র‍্যাব ডিজি ভোটের টানে কমলাপুর স্টেশনে উপচে পড়া ভিড়, নির্বাচন নিয়ে উৎসব-আতঙ্ক বরিশাল-৩ পুনরুদ্ধার চায় বিএনপি, জয়ের বিষয়ে আশাবাদী জাপা–এবি পার্টি

বরিশাল-৩ পুনরুদ্ধার চায় বিএনপি, জয়ের বিষয়ে আশাবাদী জাপা–এবি পার্টি

Chif Editor

অনলাইন ডেস্ক :- রাত পোহালেই নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। মাঠপর্যায়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে নানাভাবে চলছে প্রার্থীদের প্রচেষ্টা। ভোটার টানার কৌশলে তাই এখনো সক্রিয় প্রার্থীরা। এর ব্যতিক্রম নয় মুলাদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৩ আসন।

২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টির নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসন পুনরুদ্ধারে আশাবাদী দলটি।তবে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে জাতীয় পার্টি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও পিছিয়ে নেই। ফলে বিএনপির জন্য এই আসনে জয় সহজ হবে না বলে মনে করছেন ভোটারদের একটি অংশ।

তরুণ ভোটার আরিফুর রহমান বলেন, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যাসহ একাধিক মামলায় কারাগারে থাকা লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু। বাবার অনুপস্থিতিতে তার মেয়ে হাবিবা কিবরিয়া ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইছেন, যা আসনটিতে আলাদা একটি আবেগী পরিবেশ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে পতিত আওয়ামী শাসন ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রচার চালাচ্ছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তিনি বেশ জনপ্রিয় বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভোটারদের দোরগোড়ায় গিয়ে প্রচারে ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলেও দাবি তার সমর্থকদের।

এ ছাড়া এক বাক্সের নীতি ও ইসলাম প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রচার চালানো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামও ভালো অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বলেন, বাবুগঞ্জ ও মুলাদীতে ইসলামী আন্দোলনের নিজস্ব একটি রিজার্ভ ভোটব্যাংক রয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দুপুরে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পরও তিনি প্রায় ১৪ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। ফলে এই আসনে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তবে শুরু থেকেই ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কাজ করা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন হিমেল বলছেন, শেষ পর্যন্ত জয় হবে বিএনপিরই। তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং তার নির্দেশে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, এবার তারা ভোট দিতে মুখিয়ে রয়েছে।

স্থানীয় ভোটারদেরও বক্তব্য, বরিশাল-৩ আসন বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। অতীতে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকলেও তা নিরসন করেছেন তারেক রহমান। এখন সব স্তরের নেতাকর্মী একযোগে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের পক্ষে মাঠে রয়েছে।

জয়ের বিষয়ে আশাবাদী এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, নদীবেষ্টিত বাবুগঞ্জ-মুলাদীর উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ এবার চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ আমার জন্য নতুন হলেও আমি এমন সব এলাকায় গিয়েছি, যেখানে আগে কোনো সংসদ সদস্য প্রার্থী যাননি। মানুষ আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, নির্বাচনের পরও সেখানে যাব কি না। আমি তাদের সন্তান, তাই পাশে থাকব।

অন্যদিকে কারাগারে থাকা জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুর মেয়ে হাবিবা কিবরিয়া বলেন, এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়, এটি একজন বাবার ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য মেয়ের লড়াই। এই যুদ্ধে মুলাদী ও বাবুগঞ্জের সাধারণ মানুষ অংশ নেবে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ ভোটে তার বাবাকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবে।

জানা গেছে, ১৯৭৩ সাল থেকে বরিশাল-৩ আসনে একবার ওয়ার্কার্স পার্টি, দুইবার আওয়ামী লীগ, চারবার জাতীয় পার্টি এবং চারবার বিএনপি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। যদিও বিএনপি ২০১৪ ও পরবর্তী দুই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাই দলটির আশা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসনে তাদের আধিপত্য বজায় থাকবে।

এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৩ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ছয়জন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের এবি পার্টির ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ফুয়াদ, জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের ইয়ামিন এইচ এম ফারদিন এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আজমুল হাসান জিহাদ।

Leave a Reply