শিরোনাম

৩৫ বছরের ‘আওয়ামী তালা’ জয় করলেন পীরজাদা হানজালা

Chif Editor

অনলাইন ডেস্কঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে ৩৫ বছরের ধারাবাহিক আওয়ামী লীগের জয় ভেঙে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান বেসরকারিভাবে তার বিজয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, ১০২টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ভোটে বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে ৭৮০ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন হানজালা। তবে পোস্টাল ব্যালটে ১ হাজার ৩৯৮টি ভোট পেয়ে তিনি ব্যবধান ঘুচিয়ে এগিয়ে যান। বেসরকারি ফলাফলে রিকশা প্রতীকে তার মোট প্রাপ্ত ভোট ৬৪ হাজার ৯০৯।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাদিরা আক্তার মিঠু চৌধুরী পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩৮৫।

১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। দীর্ঘ ৩৫ বছরের সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে এবার চমক দেখালেন হানজালা।

স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক পালাবদল, বিএনপির অভ্যন্তরীণ মতভেদ এবং নতুন ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে তৃণমূল ভোটাররা নীরবে অবস্থান নেন। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে বাহাদুরপুর পীর মঞ্জিলের বংশধর হানজালার প্রার্থিতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তার ইসলামিক চিন্তাধারা ও সামাজিক কার্যক্রমও ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ঐতিহাসিকভাবে তার পূর্বপুরুষ হাজী শরিয়তউল্লাহ ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী ও নীলকরবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ এবং ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবর্তক। পরবর্তীতে তার পুত্র দুদু মিয়া আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় হানজালার প্রার্থিতা স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে অভিমত রয়েছে।

কয়েকজন ভোটারের দাবি, প্রবাসীদের বড় অংশ পোস্টাল ব্যালটে রিকশা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় ফলাফলে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি গ্রামের নারী ভোটারদেরও উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, শেষ সময়ে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়া এবং দলীয় কোন্দলের কারণেও ভোটের ব্যবধান কমে আসে। যদিও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন ও তরুণ ভোটারদের বড় অংশ রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন।

বিজয়ের পর পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, শিবচরের মানুষ যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন—তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি কোনো দলের এমপি নই, আমি পুরো শিবচরের এমপি হতে চাই। আমরা ইনসাফভিত্তিক শিবচর গড়ে তুলতে চাই।

Leave a Reply