
শিল্পী আক্তার, রংপুর ব্যুরো :- একজন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী নতুন এমপি ভুক্ত করার জন্য ঘুষ দিতে এসে ৭ লাখ টাকাসহ আটক হয়েছেন সাবেক শিক্ষক মাইদুল ইসলাম খান।
সোমবার দুপুরে রংপুর জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম কাছে মোবাইল ফোনে ৮ লাখ টাকা মেসেজ এর মাধ্যমে দেওয়ার প্রস্তাব দেয় কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী কাযাই কাটা এলাকার আব্দুল আখের খানে ছেলে মাইদুল ইসলাম খান। তার কালো ব্যাগে ৭ লাখ টাকা একটি কাঠুনে করে রেপিং পেপার দিয়ে মোড়ানো ছিল।
রংপুর জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা উপ পরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, “ভোটের দুই আগে অফিসে আসছিলো, আজকে আবার আসছে। আমি তখন তাকে বলতেছি আপনি তো ভোটের আগে আসছিলেন আজ কেন আবার আসছেন? মাঈদুল আমাকে বলে ম্যাডাম আপনার সাথে একটি কথা আছে। আমি বোল্লাম আপনার সাথে তো ভোটের দুই দিন আগেই আমার কথা হয়ে গেছে। আবার আজকে কিসের কথা বলার জন্য আসছেন। উনি তখন মোবাইলে একটা মেসেঞ্জ দেখায় সেখানে লেখা আছে এক শিক্ষকের জন্য ৫ লাখ টাকা ও ৩ জন কর্মচারীর জন্য ৩ লাখ টাকা এখানে আছে। এই মেসেসটা দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। আমি এই মুহূর্তে কি করবো। তখন আমার অফিসের সবাই লান্সে গেছে।”
তিনি আরো বলেন, মাঈদুল আমাকে বলে আপনার জন্য একটা প্যাকেট নিয়ে আসছি ম্যাডাম। এখানে একটা গিফট আছে। আমাকে যেহুত বলছে এনেছি তাহলে তো ব্যাগে কিছু আছে। তখন আমি আমার অফিসের কর্মচারীকে ডেকে বলি ঐ ব্যাগটাতে দেখ তো কি আছে। খোলার পরে দেখতে পাই সব টাকা। টাকা দেখে আমি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবগত করি।
ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করে মাইদুল ইসলাম খান জানান, ভোটরে আগেও আমি অফিসে আসছিলাম তখন না করছিলো। আমি ভাবছিলাম কিছু টাকা দিলে হয়তো আমার কাজটা করে দিবে স্যার। সেজন্য ব্যাগে করে ৭ লাখ টাকা নিয়ে আসছি তাকে দেওয়ার জন্য।
রংপুর জেলা দুদকের উপ পরিচালক মো. শাওন মিয়া জানান, জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা উপ পরিচালক রোকসানা বেগম ফোন করে জানায় শিক্ষা অফিসে একজন টাকা নিয়ে আসছে এই কথা শুনে আমি একজন অফিসারকে পাঠাই সেখানে। পুলিশের কাছে ম্যাডাম একটি জিডি করেছে। জিডি অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। যেহুত এটি একটি অপরাধ। পুলিশ এটি আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিলে আমরা যেভাবে তদন্ত করা দরকার সেভাবে করবো।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানার ওসি শাহাজান আলী জানায়, “শিক্ষার ডিডি ম্যাডাম আমাদেরকে ফোন করে ঘুষের বিষয়টি জানিয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে এসে দেখতে পাই তার রুমে একজন বসে আসে কালো ব্যাগ নিয়ে সেখানে ৭ লক্ষ টাকা পাই। ওসি আরো জানায়, ৫৪ ধরায় তারা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর জিডি মূলে টাকা গুলো জব্দ করা হয়েছে।”


