
অনলাইন ডেস্কঃ ছোট ভাই অ্যান্ড্রু আলবার্ট গ্রেপ্তারের পর ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের বিবৃতির ভাষা ছিল বেশ কঠোর। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে জানিয়ে চার্লস লিখেন, কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের (রাজপরিবার) পূর্ণ সমর্থন আছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের বিতর্কিত ঘটনা কালেভদ্রে ঘটে- বিষয়টা এমন নয়। কিন্তু তারপরও বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের স্যান্ড্রিংহামের বাড়ি থেকে সাবেক যুবরাজ অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে রাজা চার্লসের বিবৃতিটি ছিল প্রায় ১০০ শব্দের। যেটির শেষভাগে লেখা,‘আমার পরিবার এবং আমি আপনাদের সবার প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও সেবা অব্যাহত রাখব।’ এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো- ছোট ভাইয়ের প্রতি অবশিষ্ট কোনো সহমর্মিতার চেয়ে রাজা দেশের প্রতি দায়িত্বকে প্রাধান্য দেবেন।
মামলা মোকাবিলায় ওই অর্থ খরচ করলেও অ্যান্ড্রু প্রায়ই দাবি করেন, তিনি ভার্জিনিয়া জুফ্রের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা মনে করতে পারছেন না। সব ধরনের অভিযোগও অস্বীকার করেন। কিন্তু প্রকাশিত কয়েকটি ছবি বিতর্কে নতুন করে ঘি ঢালে। এই বিতর্ক কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রাজ পরিবারের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা পরিবারটিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে বড় সংকটের মুখোমুখি করেছে।
চার্লস ও অ্যান্ড্রুর বয়সের ব্যবধান প্রায় ১১ বছর। ধারণা করা হয় শৈশব থেকে তাদের মধ্যে খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা ছিল না। বরং বোন প্রিন্সেস অ্যানের সঙ্গে চার্লসের সম্পর্ক বেশি গভীর। ১৯৮০-র দশকে চার্লস ডায়ানাকে এবং অ্যান্ড্রু সারা ফার্গুসনকে বিয়ে করেন। এরপর দুই ভাই সম্ভবত সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন। কারণ, ডায়ানা ও সারা ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন।
রাজপরিবারের নানা ঘটনার ভাষ্যকার সান্দ্রো মোনেত্তি বলেন, ‘অ্যান্ড্রু বিষয়টি রাজা চার্লসের পুরো শাসনকালকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। মানুষ ভবিষ্যতেও এ ঘটনা নিয়ে কথা বলবে।’ মোনেত্তি বলেন, অভিযোগ ওঠার পর অ্যান্ড্রুর সব উপাধি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু তবুও তিনি সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় অষ্টম স্থানে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, তা রাজতন্ত্রের ভবিষ্যতকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
সূত্র: এপি



