শিরোনাম
তিন গন্তব্য বাদে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানের ফ্লাইট চলাচল শুরু বিশেষ ব্যবস্থায় সৌদি আরব থেকে ফিরছেন মুশফিক ৬ মার্চ অনশনে বসছেন মমতা ক্যান্সার আক্রান্ত জিসানের চিকিৎসায় আবারও সহায়তা দিলেন তারেক রহমান আবুধাবি-কুয়েতে বাংলাদেশিসহ ঝরল চার প্রাণ ৬৫০ কোটি টাকার ডেমু ট্রেন প্রকল্প: কয়েক বছরের মধ্যেই অচল, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংস হলো সম্ভাবনাময় রেলসেবা বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার প্রতিবাদে রংপুরে সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের মানববন্ধন চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি, সন্ত্রাসী রায়হান-ইমনকে ঘিরে নতুন আতঙ্ক চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার: কৃষি প্রতিমন্ত্রী চান্দিনায় ঘরের আঁড়ায় ঝুলেছিল মা-মেয়ের লাশ

৬ মার্চ অনশনে বসছেন মমতা

Chif Editor

অনলাইন ডেস্কঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ বা এসআইআরের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর গতকাল শনিবার নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় বাদ গেছে ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম। পাশাপাশি তথ্যগত বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ৬০ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম তালিকায় উঠলেও তাদের নাম শুনানি সাপেক্ষে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

ভোটারদের নাম তালিকাভুক্তি নিয়ে আবারও উত্তাল হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। এসআইআর (Special Intensive Revision)–এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নাম বাদ পড়ার অভিযোগে আগামী ৬ মার্চ কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শাসকদল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, ওই দিন দুপুর ২টা থেকে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হবে এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজে তাতে অংশ নেবেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত হয়েছে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা। এই চূড়ান্ত তালিকা ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় জনতা পার্টি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী অতীতে যে স্থানে অনশন করেছিলেন, এবারও একই জায়গায় বসবেন। ইতিমধ্যে প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতির জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাকর্মীদের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যে জায়গায় অতীতে অনশন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই একই স্থানে এবারও অনশনে বসবেন তিনি। দলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাকর্মীদের ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসআইআর ইস্যু নিয়ে শুরু থেকেই সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ফেব্রুয়ারির শুরুতে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছিলেন। শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়ে নিজেই বক্তব্য রাখেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তোলেন। পরে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে না জানিয়ে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই পদক্ষেপকে বেআইনি বলে দাবি করা হয়।

এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালে একাধিক ব্লক লেভেল অফিসারের মৃত্যুর ঘটনা, শুনানিতে সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং তথাকথিত অসঙ্গতি নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার অভিযোগ, বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়া মানা হয়নি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনশন কর্মসূচি তার পুরোনো আন্দোলনের ইমেজকে সামনে এনে নতুন করে জনমত সংগঠনের চেষ্টা। অতীতে বিভিন্ন ইস্যুতে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলকে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু করেছিলেন তিনি। এবারও সেই একই জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এটিকে সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবির পক্ষে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। তৃণমূল নেতারা দাবি করেছেন, তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে। বিজেপি পাল্টা বলেছে, নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনেই কাজ করেছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক দুই পথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

৬ মার্চের কর্মসূচিকে ঘিরে কলকাতায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ধর্মতলা ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না কর্মসূচি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ধর্নামঞ্চ থেকে কী বার্তা দেন তিনি এবং পরবর্তী কর্মসূচি কী হয় সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply