
মঙ্গলবার তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে কার্যালয় ত্যাগের সময় সাংবাদিকদের বলেন, চাপে নয়, নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশা পূরণে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। তার ভাষ্য, পদত্যাগের বিশেষ কোনো কারণ নেই; তবে নতুন সরকারের প্রত্যাশা ও নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে হয়তো তাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কমিশন প্রয়োজন হতে পারে—এমন চিন্তা থেকেই এ পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার আসার ১৪তম দিনে আমরা পদত্যাগ করলাম। এর বিশেষ কোনো কারণ নেই।’ ‘আমরা অনুভব করেছি যে পরিবর্তনের পর নির্বাচিত যে সরকার এসেছে, তাদেরও প্রত্যাশা রয়েছে। সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিশ্চয়ই আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কমিশন এখানে স্থাপন করবেন। এতে দুদক যেমন ভালো হবে, রাষ্ট্রেরও উপকার হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
দুদকের ‘নখ-দাঁত’ থাকা না থাকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, এটা বিচার করার মালিক আপনারা। আমাদের এত দিন নখ-দাঁত ছিল কি ছিল না, তা আপনারা ভালো বুঝতে পারবেন। আমরা আমাদের সময়টুকুতে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।
সাবেক সচিব আবদুল মোমেন অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তার সঙ্গে এই দুই কমিশনারও যোগদান করেন।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় মঙ্গলবার তিনজনই একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর ফলে দুদকের নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ড. মোমেন ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর পাঁচ বছরের মেয়াদে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ছিলেন। তার সঙ্গেই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী ১১ ডিসেম্বর এবং হাফিজ আহসান ফরিদ ১৫ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


