
- কুমিল্লায় আইনজীবী কালাম হত্যা মামলার আসামি বিপু প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, মামলা প্রত্যাহারের হুমকির অভিযোগ, গ্রেফতারের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।
কুমিল্লা প্রতিনিধি :- কুমিল্লার বহুল আলোচিত আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মো. ইসতিয়াক সরকার ওরফে বিপু প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদী ও তার পরিবারকে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ জানানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোগলটুলি এলাকার বাসিন্দা আবদুল আলিম সরকারের ছেলে ইসতিয়াক সরকার বিপু মামলাটির ১৩ নম্বর চার্জশিটভুক্ত আসামি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। বরং তিনি প্রকাশ্যে এলাকায় চলাফেরা করছেন এবং মামলাটি তুলে নিতে বাদীসহ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বাদীপক্ষের স্বজনরা।
এ ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতারে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সংকীর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানান।
নিহত আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ কুমিল্লা আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তার বাসা কুমিল্লা নগরীর রাণীর দিঘির দক্ষিণপাড় এলাকায় এবং গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায়।
মামলার বাদী ও চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলি এলাকায় একটি বিজয় মিছিলে অতর্কিত গুলিতে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১৬ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার পর নিহতের সহকারী আইনজীবী মোস্তাফা জামান জসিম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ এক বছর তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার কন্যা, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনাসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১০ আগস্ট কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে।
সে সময়ের মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন কোতোয়ালি মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম।


