
ডেস্ক রিপোর্ট :- আজকের এই দিনে সাংবাদিক শিল্পী আক্তারের কোলজুড়ে কলিজার টুকরো, নারী ছেড়া ধন রাজপুত্র এস এম শিফাতুল ইসলাম (প্রাপ্য) ‘পৃথিবীতে আগমন। সাংবাদিক শিল্পী আক্তার জানান, ওর জন্মদিনে, কি বলব ভাষায় প্রকাশ করার মতো নেই, অনেক স্মৃতি। জীবনের প্রথম মা হওয়ার আশা-আকাঙ্ক্ষা, কত যে আনন্দ, উল্লাস, বুকভরা আশা, স্বপ্ন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। অনেক ঘাত প্রতিঘাত জীবনের উপর দিয়ে চলে গেছে, এই পৃথিবীতে মা হওয়ার আনন্দটা যে কি সেটা একটা নারী বোঝে। আমি তখন ছোট, তখন আমার ছেলে ও আমার পেটে থাকতেই ওর নাম নির্ধারণ হয়েছিল প্রাপ্য মানে কষ্টের পাওয়া। সেই থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে জীবন সংগ্রামী সেই বৃষ্টি ছেলেটা কখন যে এত বড় হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না।
আমার জীবনের বেঁচে থাকার স্পন্দন একমাত্র আমার ছেলে। নিজের সুখটা বিসর্জন দিয়েছিলাম ওকে ভালো রাখবো বলে। পৃথিবীর বেস্ট বন্ধুটা আমার ছেলে, আমরা মা ছেলে দুজন দুজনের বন্ধু। ঝগড়া, রাগ, অভিমান অনেক কিছু থাকে, তবুও মা ছেলে। ওর পৃথিবী জুড়ে আমি আমার পৃথিবী জড়িয়ে ও, ২২ বছরের লড়াই, ওকে নিয়ে আমার জীবনের পথ চলা এখনো শেষ হয়নি। এখন সে ভার্সিটির অ্যাডমিশন পরীক্ষার্থী, ভাবলেই অবাক লাগে, আমার ছেলেটা কবে এত বড় হয়ে গেল! আমার মনে হয় না আমার জানতে ওর কোনো চাওয়া আমি অপূর্ণ রাখছি, এখন যতটুকু পারি, সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, একটা মেয়েমানুষ সন্তানকে যেভাবে মানুষ করা যায়, আমি আমার আদর্শে তৈরি করেছি। আল্লাহ যেন আমার আয়ুগুলো নিয়ে ওকে পৃথিবীতে বেঁচে রাখে, সুস্থ রাখে, হাসিখুশি রাখে সারা জীবন। এই প্রার্থনা করি আল্লাহর কাছে। বাবা, তুই বড় হয়ে ভালো কিছু পর, এটা তোর মা কামনা করে আমার অনেক কষ্টের সাধনার ধন তুই। তোকে মানুষ করতে গিয়ে, ভালো রাখতে গিয়ে নিজের কথা ভুলে গিয়েছিলাম আমি। আর যাই করিস বাবা, এই মা টাকি কখনো কষ্ট দিস না।
আজকে একটা গান বারবার মনে পড়ছে …”তুমি এই দিনে পৃথিবীতে এসেছো, শুভেচ্ছা তোমায়”….। তোর জীবনে প্রতিটা বছর এভাবে হাসিখুশি ভাবে যেন ফিরে আসে বারবার। তুই আমার সাত রাজার ধন, হৃদয়ের স্পন্দন। তোকে হিরো, অনেক স্বপ্ন আমার, জানি না আল্লাহ এতদিন বেঁচে রাখবে কিনা, তবে যেখানেই থাকি সবসময় চাইবো ভালো কিছু করবি, আমার স্বপ্ন সত্যি করবি। এই মাসেই আমি আমার আর দুই সন্তানকে হারিয়েছি, সেটা তো তুই জানিস। ওরা যেখানে আছে ভালো আছি, আল্লাহ যেন তাদেরকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব দান করে। যাই হোক সেসব কথা থাক, আবারও বলছি, শুভ জন্মদিন বাবা। ভালো থাকিস সারা জীবন হাসি খুশি এই কামনা তোর মায়ের।”শুভ জন্মদিন”বাবা!



