শিরোনাম
ছুটির দিনে অর্ধ কোটি টাকার নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে পরস্পর বিরোধী অবস্থানে ইউএনও এবং বিএনপি সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত রাণীশংকৈলে ঝড়ে ঘরের দেয়াল ধসে স্কুলছাত্রের মৃত্যু সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় ঠাকুরগাঁওয়ের মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভীন পাবলিক পরীক্ষার আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন প্রমাণ করে পারমাণবিক অস্ত্র অপরিহার্য: উত্তর কোরিয়া মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতা ‌‘চোখে আঙুল দিয়ে’ দেখিয়ে দিলো ইরান দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ঘিরে প্রস্তুতি সভা আমারপে-তে ১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ গ্লোবাল ফিনটেক কোম্পানি সিমপায়সার বিজয়পুর নোয়াপাড়ায় এতিম ছাত্রদের মাঝে নতুন পাঞ্জাবি বিতরণ, মুখে ফুটল আনন্দের হাসি

ছুটির দিনে অর্ধ কোটি টাকার নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে পরস্পর বিরোধী অবস্থানে ইউএনও এবং বিএনপি সভাপতি

Chif Editor

বিশাল রহমান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :- ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অর্ধকোটি টাকার রহস্যময় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় তুলকালাম।

‘মব সৃষ্টি করে’ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে একটি কলেজের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করছেন ইউএনও, ঘুষ নিয়ে গোপনে দরজা জানালা বন্ধ করে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি। জানা গেছে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ইউএনও কর্তৃক নিয়োগ–বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে গতকাল শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে এই রহস্যময় ঘটনা ঘটে। যার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ের পরিছন্নতাকর্মী ও আয়ার নিয়োগের জন্য সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি দেয় কর্তৃপক্ষ। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর দুটি পদের জন্য অর্ধ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার গোপনে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এলাকাবাসী।
রহস্যময় ঐ পরীক্ষা শেষে নিয়োগপ্রক্রিয়া চলার সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন ইউএনওর কার্যালয়ে আসেন।

সে সময় জামাল উদ্দিন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অসচ্ছতার অভিযোগ এনে তা বন্ধ করতে বলেন। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা ইরফান আলী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, যুবদলের নেতা মো. ফারুক, মোখলেসুর রহমানসহ ২৫ থেকে ৩০ নেতা-কর্মী। তাঁরা ইউএনওর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে নেতা-কর্মীরা নিয়োগের কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে কার্যালয় থেকে সরে যান। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় কথা-কাটাকাটির ফাঁকে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনকে বলেন, ‘আমি আমার মহাসচিবের সাথে এই বিষয়ে কথা বলে তারপরে গাড়িতে উঠেছি। আপনি রাতের বেলায় অফিসে কিছু কিছু ক্লাইন্টকে নিয়ে এসে…।’ কথা শেষ হতেই ইউএনও বলেন, ‘রাতের বেলায় আমি অফিস করব, সেটা তো একান্ত আমার বিষয়। আমাদের অফিস চব্বিশ বাই সেভেন।

জামাল বলেন, ‘আপনি নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছেন।’ এ সময় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি অফিস রাতে বা দিনে করেন আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এর আগের ইউএনও বিকাশ চন্দ্র বর্মন ছিল ওনাকে আমরা সেভ করেছি এখানে।’ সে সময় ইউএনও বলেন, ‘এই মব কালচার করে তখনো কিন্তু এ রকম করা হয়েছিল।

জামাল বলেন, ‘আপনি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেবেন, এটা মানা হবে না।’ ইউএনও বলেন, ‘অধ্যক্ষ যদি অবৈধ হয় বোর্ডকে বলেন, নিয়োগ বাতিল করে দিতে, আমাদের অসুবিধা কোথায়?’ সে সময় জামাল বলেন, ‘আমরা এই কথাটি বারবার বলছি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টদের আপনি নিয়োগ দিবেন, আমরা কি ললিপপ চুষবো? এটা তো হবে না। এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হানুল ইসলামকে ফোনে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মব সৃষ্টি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টার অপরাধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, দুটি পদে অর্ধ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে গোপনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে অভিযোগকারীদের সংগে নিয়ে ইউএনও অফিসে গিয়ে ইউএনওকে পরীক্ষা স্থগিত করার অনুরোধ করি কিন্তু তিনি উল্টা পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার কারণে উপস্থিত নেতাকর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তিনি বলেন, ইউএনও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে প্রায়শই নানা ঠুনকো কারণে অপমান করেন।তিনি এই উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সাইকো আখ্যা দিয়ে তাঁর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

Leave a Reply