
শিল্পী আক্তার, রংপুর ব্যুরো :- রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৯ নম্বর ময়েনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোকছেদুল আলম মুকুল সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ওই পরিষদের নির্বাচিত সদস্যরা (মেম্বার)।
সদস্যদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান মো. মোকছেদুল আলম সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের কোনও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না। বিগত ৩০ মাস ধরে নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়নি। সদস্যরা ভাতার দাবি জানালে তাদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন আচরণ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এলজিএসপি বা অন্যান্য খাতের ১% বরাদ্দের প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা কোনও সদস্যকে অবগত না করে এবং রেজুলেশন ছাড়াই চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া পরিষদের টেন্ডার ও প্রকল্প কাজগুলো সাধারণ সভা ছাড়াই গোপনে দাখিল করা হয়। বিশেষ করে ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কোনও উন্নয়ন কাজ না করে জনমনে চরম বৈষম্য ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছেন তিনি।
অভিযোগকারীরা জানান, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ কায়েম সনদসহ বিভিন্ন খাত থেকে সংগৃহীত কর ব্যাংকে জমা না দিয়ে চেয়ারম্যান নিজের খেয়াল খুশিমতো খরচ করছেন। এমনকি শুকুরেরহাট উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১২ লক্ষ টাকা কোনও সভা বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি এককভাবে তুলে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী ইউপি সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের মূল্যায়ন করেন না। আমরা নারীরা পরিষদে নিজেদের কথা বলতে পারি না। দীর্ঘ ৩০ মাস ধরে আমাদের সম্মানী ভাতা আটকে রাখা হয়েছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত মানহানিকর।”
ইউপি সদস্য জাহেরুল ইসলাম, মামুন মিয়া, মিজানুর রহমান ও নাজমুল হক বলেন, আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান আমাদের পাত্তাই দেন না। পরিষদের লাখ লাখ টাকা তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে খরচ করছেন। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ময়েনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকছেদুল আলম মুকুল বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিষদের সকল কাজ নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতেই এই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ বলেন, “ময়েনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


