শিরোনাম
তিন গন্তব্য বাদে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানের ফ্লাইট চলাচল শুরু বিশেষ ব্যবস্থায় সৌদি আরব থেকে ফিরছেন মুশফিক ৬ মার্চ অনশনে বসছেন মমতা ক্যান্সার আক্রান্ত জিসানের চিকিৎসায় আবারও সহায়তা দিলেন তারেক রহমান আবুধাবি-কুয়েতে বাংলাদেশিসহ ঝরল চার প্রাণ ৬৫০ কোটি টাকার ডেমু ট্রেন প্রকল্প: কয়েক বছরের মধ্যেই অচল, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংস হলো সম্ভাবনাময় রেলসেবা বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার প্রতিবাদে রংপুরে সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের মানববন্ধন চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি, সন্ত্রাসী রায়হান-ইমনকে ঘিরে নতুন আতঙ্ক চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার: কৃষি প্রতিমন্ত্রী চান্দিনায় ঘরের আঁড়ায় ঝুলেছিল মা-মেয়ের লাশ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নোয়াবের উদ্বেগের জবাব দিল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

S M Rashed Hassan

দেশপত্র ডেস্কঃ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) প্রকাশিত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে জবাব দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং।

শনিবার (৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে প্রেস উইং জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয়, কার্যক্রম বা ব্যবসায়িক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। বরং ভুল তথ্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমী সংযম দেখানো হয়েছে। টেলিভিশনের টক শো ও কলামে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হলেও কোনো ধরনের সেন্সরশিপ বা লাইসেন্স স্থগিতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি অতীতে জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া কিছু মিডিয়াকে পুনরায় প্রকাশ বা সম্প্রচারের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকরা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীদের কাছে সরাসরি অ্যাক্সেস পাচ্ছেন এবং কারও সম্পাদকীয় অবস্থান বা প্রতিষ্ঠানের কারণে সাক্ষাৎকার বা ব্রিফিং থেকে বঞ্চিত করা হয়নি।

অ্যাক্রেডিটেশন পদ্ধতি নিয়ে নোয়াবের সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রেস উইং জানায়, পূর্বের ব্যবস্থায় বৈধ সাংবাদিক নন এমন ব্যক্তিদের সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, লবিস্ট ও সুবিধাবাদীরা ছিলেন। এই ভাঙা কাঠামো ভেঙে দিয়ে প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য অস্থায়ী পাশ সিস্টেম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুরনো নীতিমালায় থাকা সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী ধারা সংশোধন করা হয়েছে এবং নতুন করে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রেস উইং স্পষ্ট করে জানায়, যেসব সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন, তা সরকারের কোনো নির্দেশে নয়; বরং গণমাধ্যম মালিকদের সম্পাদকীয় ও করপোরেট পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তের ফল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকসহ সব নাগরিকের শারীরিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মিডিয়া প্রতিষ্ঠান, সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চলতি বছরের শুরুতে মিডিয়া সংস্কার কমিশন সাংবাদিক সুরক্ষা আইনসহ নতুন সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে, যা সরকার বিবেচনা করছে।

প্রেস উইং নোয়াবকে পরামর্শ দিয়েছে, দোষারোপের আগে নিজস্ব সদস্যদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অন্যায্য আচরণের জন্য জবাবদিহি করতে। যেমন—মজুরি শোষণ, শ্রম অধিকার অস্বীকার, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করানো ও অসহনীয় কর্মপরিবেশ সৃষ্টি।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সরকারের কাছে নিছক স্লোগান নয়, বরং একটি নীতি, যা সরকার ধারণ ও বাস্তবায়ন করছে। নোয়াবের উদ্বেগ তথ্যভিত্তিক ও সঠিক পক্ষের উদ্দেশে হলে তা আরও অর্থবহ হবে। সরকার স্বচ্ছতা, সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই মূল্যবোধ রক্ষায় সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

 

Leave a Reply