নিজস্ব প্রতিবেদক :- প্রাথমিক স্তরের একটি পাঠ্যবইয়ে ‘বিপরীতার্থক শব্দ’ শেখাতে সাদা মানুষের বিপরীতে কালো মানুষের ছবি ব্যবহার করে ‘সুন্দর–কুৎসিত’ বোঝানোর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এ ধরনের উপস্থাপন শিশুদের মনে বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক ধারণা তৈরি করতে পারে।সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, তৃতীয় শ্রেণির ব্যাকরণ অংশে দুটি মানুষের ছবি দিয়ে ‘সুন্দর’ ও ‘কুৎসিত’ বোঝানো হয়েছে। সেখানে সাদা চামড়ার একজন মানুষকে সুন্দর এবং কালো চামড়ার একজন মানুষকে কুৎসিত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই একে অমানবিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন।একজন লেখক যার অনুমতি ব্যতীত তার ছবি এখানে ব্যবহার করা হয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “মানুষকে কখনোই কুৎসিত বলা যায় না। মহান আল্লাহ মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন।
গায়ের রঙের ভিত্তিতে সৌন্দর্য বা কুৎসিততার বিচার মানবিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিপন্থী।” তিনি লেখকের উদ্দেশে অনুরোধ জানান, যেন পরবর্তী সংস্করণে এই অংশটি সংশোধন করা হয়।শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিশুদের পাঠ্যবইয়ে এমন উদাহরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিন্তাভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁদের মতে, পাঠ্যবইয়ে এমন উপস্থাপন বৈষম্য ও বর্ণবিদ্বেষের বীজ বপন করে, যা একটি মানবিক ও সহনশীল সমাজ গঠনের পথে বড় বাধা।বিশ্ব ইতিহাসে বর্ণবাদের ভয়াবহ পরিণতির বহু উদাহরণ রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা আজীবন সংগ্রাম করেছেন এই বর্ণবাদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ২৭ বছর কারাবরণ করে তিনি তাঁর দেশকে মুক্ত করেছিলেন বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে। তাঁর বক্তব্য ছিল, মানুষ জন্মগতভাবে ঘৃণাশীল নয়, ঘৃণা শেখানো হয়—আর শেখানো গেলে ভালোবাসাও শেখানো যায়।সচেতন মহল মনে করছেন, পাঠ্যবইয়ের এই অংশ দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, শিশুদের মনে সাম্য, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হলে পাঠ্যবই থেকেই বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে হবে।
প্রধান সম্পাদক : জুয়েল খন্দকার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম রাশেদ হাসান
নির্বাহী সম্পাদক : গাজী ওয়ালিদ আশরাফ সামী
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হট-লাইন নাম্বার : ০১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ০১৯৬৭৯৯৯৭৬৬.
স্বত্ব © ২০২৬ দেশপত্র