শিরোনাম
রংপুরে নকল ঘি কারখানার সন্ধান, বিপুল পরিমাণ নকল ঘিসহ এক ব্যক্তি আটক ১০ লাখ পরিবারকে ন্যায্য মূল্যে ডিম-দুধ-মাংস দেওয়া হবে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মাল্টিবিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে চাই: কৃষিমন্ত্রী ফলমন্ডিতে অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণে কলাগাছের ওপর ইটের গাঁথুনি! সাংবাদিকতার পরিসরে সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধানের কথা বললেন তথ্যমন্ত্রী যথাযথ মর্যাদায় পশ্চিমবঙ্গে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস দায়িত্বশীলতা ও সততার ওপরই নির্ভর করবে আগামীর বাংলাদেশ: ববি হাজ্জাজ স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকলে সেদেশে গণতন্ত্র চলতে পারে না: তথ্যমন্ত্রী প্রত্যেককে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী – মিলন

যথাযথ মর্যাদায় পশ্চিমবঙ্গে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

Chif Editor

অনলাইন ডেস্ক :- একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির গর্ব ও শ্রদ্ধার দিন। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে দুই বাংলার মানুষ-বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ। তবে দিনটিতে এবারও অনেকটাই তাল কেটেছে কলকাতাস্থিত বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে। একেবারে জৌলুসহীনভাবে পালন করা হয়েছে মাতৃভাষা দিবস।

এবারও ভাষা দিবস উপলক্ষে কোনো অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। মিডিয়ারও অনুমতি ছিল না। একেবারে ঘরোয়া পরিবেশেই পালন করা হয়েছে দিবসটি। একুশের সকালে উপ-হাইকমিশন চত্বরে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।

পতাকা অর্ধনমিত করেন ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার সিকদার মো. আশরাফুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তুষিতা চাকমা (কাউন্সিলর ও চ্যান্সারি প্রধান), মো. জিল্লুর রহমান (প্রথম সচিব, কনস্যুলার), মো. আসাফ রেজাসহ (কাউন্সিলর, শিক্ষা ও ক্রীড়া) মিশনের কর্মকর্তারা। পরে উপ-হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপর ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন, বাণী পাঠ, ইউনেস্কো প্রধান কর্তৃক প্রেরিত ভিডিও প্রদর্শন এবং মোনাজাত করা হয়। মহান ‘ভাষা শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’-এর গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া কলকাতা শহরে বিভিন্ন শাখা সংগঠন ও রাজ্য সরকার নিজ নিজ উদ্যোগে দিবসটি পালন করছে। কলকাতার রবীন্দ্রসদন সংলগ্ন বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের পাশে রয়েছে কলকাতা করপোরেশনের নির্মিত ভাষা শহীদ বেদি। এটি ভিন্ন আদলে নির্মিত-মায়ের কোলে শুয়ে আছেন এক ভাষা শহীদ। মমতার অনুরোধে মূর্তিটি নির্মাণ করেছিলেন শিল্পী যোগেন চৌধুরী।

এদিন সকালে সেখানে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, কাউন্সিলর সুস্মিতা ভট্টাচার্যসহ কলকাতা পুরসভার সচিব ও বিশিষ্টজনেরা। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মেয়র বলেন, একজন বাঙালি হিসেবে তিনি গর্বিত। তবে তিনি বিশ্বের সব মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু হিন্দি বলয়ে যেভাবে বাঙালিদের প্রতি অত্যাচার চলছে, তা তিনি মেনে নিতে পারেন না।

তিনি বলেন, আমি বাঙালি বলে আমাকে লাঞ্ছিত হতে হবে? অত্যাচারিত হতে হবে? এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রসঙ্গত, ভারতের একাধিক রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়াও এদিন সকালে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর’র উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে অবস্থিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। সকালে বিশ্বভারতীর আন্তর্জাতিক গেস্ট হাউসের সামনে থেকে গান গেয়ে শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি বিশ্বভারতী চত্বরে পরিক্রমা করে পৌঁছে বাংলাদেশ ভবনে। সেখানে অস্থায়ী শহীদ বেদি নির্মাণ করা হয়েছে। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। র্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য, বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা এবং বহু শিক্ষার্থী। গান, শোভাযাত্রা ও শ্রদ্ধাঞ্জলির মধ্য দিয়ে বিশ্বভারতীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অন্যদিকে ভাষা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সারা রাতব্যাপী অনুষ্ঠান করেছে ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’ নামে একটি সংগঠন। শুক্রবার বিকেল থেকে কলকাতার রবীন্দ্রসদন সংলগ্ন একাডেমি অব ফাইন আর্টসের সামনে রাণুছায়া মঞ্চে শুরু হওয়া সারা রাতব্যাপী বাংলা ভাষা উৎসবে নাচ, গান, কবিতা, নাটক, যাদু, বাউল ও লোকউৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার সকালে প্রভাতফেরির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপনী হয়।  এ ছাড়া বিকেলে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রীসহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এর আগে সকালে এক্স-এ মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই পুণ্যদিনে তিনি বিশ্বের সব ভাষা ও ভাষাভাষী মানুষকে সম্মান জানান। বিশ্বের সব দেশের ভাষা-শহীদ ও ভাষা-সংগ্রামীদের প্রতি জানান প্রণাম ও অন্তরের শ্রদ্ধা।

তিনি আরও লেখেন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, জীবনানন্দের বাংলা শুধু নয়-সব ভাষাকেই সম্মান করা হয়। তার সময়ে হিন্দি, সাঁওতালি, কুরুখ, কুড়মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরী, পাঞ্জাবি ও তেলুগু ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

সাদরি ভাষার মানোন্নয়নেও সচেষ্ট রয়েছে সরকার। হিন্দি আকাদেমি, রাজবংশী ভাষা আকাদেমি, কামতাপুরী ভাষা আকাদেমি ও সাঁওতালি আকাদেমি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিশ্চিত করা হয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি ভাষাভাষী মানুষ যেন তাদের মাতৃভাষায় পড়াশোনার সুযোগ পায়।

একুশের এই পুণ্য দিনে আরও একবার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যে কোনো ভাষার ওপর আক্রমণ এলে সবাই মিলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো হবে। সব ভাষাই সমানভাবে সম্মাননীয়।

Leave a Reply