শিরোনাম
চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি, সন্ত্রাসী রায়হান-ইমনকে ঘিরে নতুন আতঙ্ক চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার: কৃষি প্রতিমন্ত্রী চান্দিনায় ঘরের আঁড়ায় ঝুলেছিল মা-মেয়ের লাশ বর্তমান সংসদকে ‘অপবিত্র’ আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন চাইল এনসিপি ইরানের রাস্তায় খামেনির হাজার হাজার সমর্থক ইরানের সর্বোচ্চ নেতার স্থলাভিষিক্ত হবেন কে? তেল আবিবে ইরানের হামলায় অন্তত ৪০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত নৈতিক-আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে খামেনিকে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হয়েছে: পুতিন ইরানের নেতৃত্ব পরিষদে আলিরেজা আরাফি প্রতিশোধ নেওয়া ইরানের ‘দায়িত্ব ও বৈধ অধিকার’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার স্থলাভিষিক্ত হবেন কে?

Chif Editor

অনলাইন ডেস্ক :- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ায় তার উত্তরসূরি খোঁজার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটির বর্তমান ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা।

প্রায় চার দশক ধরে শক্তহাতে দেশ শাসন করা অভিজ্ঞ নেতা খামেনির আনুষ্ঠানিক কোনো উত্তরাধিকারী ঘোষণা করা নেই। যে কারণে ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ আলেমের সমন্বয়ে গঠিত অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ পরবর্তী নেতা নির্বাচন করবে।

১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পরিষদকে কেবল একবারই এমন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।

তিন দশকেরও বেশি সময় আগে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নির্বাচিত করা হয়েছিল।প্রজাতন্ত্রের স্থিতিশীলতার জন্য শাসকগোষ্ঠী দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। খামেনির স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তির নাম ঘোষণার আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনার জন্য পরিষদের সদস্যদের শিগগিরই বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

তবে তারা কোনো সভা করার ঝুঁকি নিতে পারবেন কি না তা স্পষ্ট নয়, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছেন, শাসনব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বোমা হামলা সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

বিশেষজ্ঞ পরিষদকে এমন একজন উত্তরসূরি বেছে নিতে হবে, যিনি সংবিধানের শর্তাবলি পূরণ করেন। নতুন নেতাকে অবশ্যই পুরুষ, রাজনৈতিকভাবে দক্ষ আলেম, নৈতিক কর্তৃত্বসম্পন্ন এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি অনুগত হতে হবে। পরিষদ সম্ভবত সংস্কারপন্থি আলেমদের বাদ দিতে আইনটির ব্যাখ্যা দেবে, যারা সামাজিক স্বাধীনতা ও বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের পক্ষে।

বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী এ পদের জন্য সম্ভাব্য কয়েকজনের সম্পর্কে এখানে তুলে ধরা হলো।

মোজতবা খামেনি, বয়স ৫৬
খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা পর্দার আড়ালে ব্যাপক প্রভাব খাটানোর জন্য পরিচিত। দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও তাদের স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

কিন্তু শিয়া মুসলিম আলেম সমাজ, বিশেষ করে বিপ্লবোত্তর ইরানে বাবা থেকে ছেলের উত্তরাধিকারকে বাঁকা চোখে দেখা হয়। কারণ দেশটি একটি রাজতন্ত্রকে উৎখাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আরেকটি বাধা হলো, মোজতবা কোনো উচ্চপদস্থ আলেম নন এবং প্রশাসনে তার কোনো দাপ্তরিক ভূমিকা নেই।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।আলিরেজা আরাফি, বয়স ৬৭
তুলনামূলক কম পরিচিত ব্যক্তিত্ব হলেও আলিরেজা আরাফি একজন প্রতিষ্ঠিত আলেম। তার সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন।

আলিরেজা বর্তমানে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রভাবশালী ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’-এর সদস্য ছিলেন, যারা নির্বাচনের প্রার্থী ও সংসদের আইন যাচাই-বাছাই করে। তিনি ইরানের সেমিনারি সিস্টেমের প্রধানও।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের অ্যালেক্স ভাতানকার মতে, আরাফিকে জ্যেষ্ঠ ও কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে খামেনির আগ্রহ প্রমাণ করে তার ‘প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর নেতার অগাধ আস্থা’ ছিল। তবুও আরাফি খুব একটা ওজনদার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই।

ভাতানকা লিখেছেন, তিনি প্রযুক্তিবান্ধব এবং আরবি ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল। সেইসঙ্গে তার ২৪টি বই ও নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি, বয়স ৬০-এর কাছাকাছি
মেহদি মিরবাঘেরি একজন কট্টরপন্থি আলেম এবং বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য। তিনি আলেম সমাজের সবচেয়ে রক্ষণশীল অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

সম্প্রতি জানা গেছে, গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধে উচ্চ মৃত্যুহারকে তিনি যুক্তিযুক্ত করেছেন এভাবে– যদি এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়তা করে তবে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার মৃত্যুও সার্থক।

অ্যাক্টিভিস্ট আউটলেট ‘ইরানওয়্যার’-এর তথ্যমতে, মেহদি মিরবাঘেরি পশ্চিমের ঘোর বিরোধী। তিনি বিশ্বাস করেন মুমিন ও কাফেরদের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য। তিনি বর্তমানে উত্তরের পবিত্র শহর কোমের ‘ইসলামিক সায়েন্স একাডেমি’র প্রধান।

হাসান খোমেনি, বয়স ৫০-এর কাছাকাছি
হাসান খোমেনি ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। এই পরিচয় তাকে ধর্মীয় ও বৈপ্লবিক বৈধতা দেয়।

তিনি খোমেনির সমাধিসৌধের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে হাসান খোমেনি কোনো সরকারি পদে ছিলেন না এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা শাসকগোষ্ঠীর ওপর তার প্রভাব খুব কম বলেই মনে হয়। তিনি তার সমসাময়িকদের তুলনায় কম কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত এবং ২০১৬ সালে তাকে বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচনে লড়তে বাধা দেওয়া হয়েছিল।

হাশেম হোসেনি বুশেহরি, বয়স ৬০
হাশেম হোসেনি বুশেহরি একজন জ্যেষ্ঠ আলেম। তিনি উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রথম ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বলা হয় তিনি খামেনির ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার পরিচিতি কম এবং আইআরজিসির সঙ্গে তার কোনো ভালো সম্পর্কের কথা জানা নেই।

সূত্র: সিএনএন

Leave a Reply