শিরোনাম
লালমনিরহাট হাতিবান্ধা সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ কুমিল্লায় সাংবাদিক মওদুদ”কে হামলা ও হয়রানীর নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা “একজন ফেলানী খাতুন ও একটি মানচিত্র” বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার দীর্ঘ ছায়া আশুলিয়ায় ছাত্র হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির গ্রেপ্তার নওগাঁয় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী হত্যার ১৫ বছর আজ বিচারের অপেক্ষায় পিতা-মাতা এএসপির বিরুদ্ধে ‘মারধরের’ অভিযোগ: নেপথ্যে বাসে টিকিট জালিয়াতি ও যাত্রী হয়রানি নওগাঁয় বিএনপির দুই নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে অনড় বাংলাদেশ: আসিফ নজরুল এনসিপিকে ১০ আসন ছাড়ার প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললো জামায়াতে ইসলামী

শাহজালাল ফার্টিলাইজারের সাবেক হিসাব প্রধানের ১২ ফ্ল্যাটসহ সম্পদ জব্দ

Chif Editor

অনলাইন ডেস্ক :- সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ করা অর্থে কেনা জমি, জমির শেয়ার, ফ্ল্যাট ও ব্যাংকে স্থিত অর্থ জব্দ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শাহজালাল ফার্টিলাইজারের সাবেক হিসাব বিভাগের প্রধান খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল ও রসিদ জমা দিয়ে বিসিআইসির শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ নামে ও স্ত্রী হালিমা আক্তারের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় ওই সম্পদসমূহ জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, জব্দকৃত সম্পত্তির আনুমানিক মোট মূল্য কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা।

শাহজালাল ফার্টিলাইজারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান শেষে সিআইডি বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল  মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে।

জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে ২৩ দশমিক ৫ কাঠা জমি, ১১টি শেয়ার—যার মোট জমির পরিমাণ ৩৯২ দশমিক ৭৩২৩ অযুতাংশ, ১২টি ফ্ল্যাট—যার দলিল মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫৯০ টাকা হলেও বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশক্রমে তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মোট ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

মামলাটির তদন্তে যায়, ২০০৫ সালে বিসিআইসির প্রকল্প শাহজালাল সার কারখানায় সহকারী হিসাবরক্ষক পদে চাকরি নেন খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল।

পরে পদোন্নতি পেয়ে হিসাব বিভাগের প্রধান হন। ১৪ বছরের চাকরি জীবনে মোট ৯১টি গাড়ি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দুটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও ঢাকা-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অর্থ আত্মসাতের কারণে পাঁচ বছর আগে ওই কারখানা থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।মামলার তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২২ সালের জুনে ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে র‌্যাব।

পরে র‌্যাবের অভিযোগের ভিত্তিতে ইকবাল ও হালিমা দম্পতির বিষয়ে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। অনুসন্ধান শেষে বাদী হয়ে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করে সংস্থাটি।মামলার এজাহারে উল্লেখ কর হয় যে, খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল ও রসিদ জমা দিয়ে বিসিআইসির শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৫১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব ভুয়া বিল ও রসিদ তৈরি করা হয়েছে ইকবালের স্ত্রী হালিমা আক্তারের দুটি প্রতিষ্ঠান টিআই ইন্টারন্যাশনাল ও নুসরাত ট্রেডার্সের নামে। স্ত্রীর নামে দুটি নামসর্বস্ব কোম্পানি খুলে ভুয়া বিল ও রসিদ জমা দিয়ে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সার কারখানার একটি প্রকল্প শাহজালাল ফার্টিলাইজার থেকে ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৫১ টাকা তুলে নেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়াও এই জালিয়াতির ঘটনায় পৃথকভাবে ২৬টি মামলার তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।মামলাটি তদন্তকালীন আরও কিছু স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়। জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার রমনা ও এয়ারপোর্ট এলাকায় ছয়টি ফ্ল্যাট;  ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে মোট ৩০৪ শতাংশ জমি (যার দলিল মূল্য ৭ কোটি ১১ লাখের অধিক)।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৯১টি গাড়ির নিবন্ধন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২১টি মিনিবাস ও দুটি হায়েস জব্দ করা রয়েছে। আদালতের নির্দেশে ২১টি মিনিবাসের রিসিভার হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি, সিআইডি, ঢাকা নিযুক্ত হওয়ায় ওই গাড়িগুলি বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভাড়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ভাড়ায় চালিত ওই গাড়িগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ টাকা লাভ হওয়ায় সম্পূর্ণ লভ্যাংশ আদালতের অনুমতিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply