
অনলাইন ডেস্ক :- সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ করা অর্থে কেনা জমি, জমির শেয়ার, ফ্ল্যাট ও ব্যাংকে স্থিত অর্থ জব্দ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শাহজালাল ফার্টিলাইজারের সাবেক হিসাব বিভাগের প্রধান খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল ও রসিদ জমা দিয়ে বিসিআইসির শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ নামে ও স্ত্রী হালিমা আক্তারের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় ওই সম্পদসমূহ জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, জব্দকৃত সম্পত্তির আনুমানিক মোট মূল্য কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা।
জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে ২৩ দশমিক ৫ কাঠা জমি, ১১টি শেয়ার—যার মোট জমির পরিমাণ ৩৯২ দশমিক ৭৩২৩ অযুতাংশ, ১২টি ফ্ল্যাট—যার দলিল মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫৯০ টাকা হলেও বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশক্রমে তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মোট ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্তে যায়, ২০০৫ সালে বিসিআইসির প্রকল্প শাহজালাল সার কারখানায় সহকারী হিসাবরক্ষক পদে চাকরি নেন খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৯১টি গাড়ির নিবন্ধন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২১টি মিনিবাস ও দুটি হায়েস জব্দ করা রয়েছে। আদালতের নির্দেশে ২১টি মিনিবাসের রিসিভার হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি, সিআইডি, ঢাকা নিযুক্ত হওয়ায় ওই গাড়িগুলি বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভাড়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ভাড়ায় চালিত ওই গাড়িগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ টাকা লাভ হওয়ায় সম্পূর্ণ লভ্যাংশ আদালতের অনুমতিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।



