শিরোনাম
লালমনিরহাট হাতিবান্ধা সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ কুমিল্লায় সাংবাদিক মওদুদ”কে হামলা ও হয়রানীর নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা “একজন ফেলানী খাতুন ও একটি মানচিত্র” বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার দীর্ঘ ছায়া আশুলিয়ায় ছাত্র হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির গ্রেপ্তার নওগাঁয় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী হত্যার ১৫ বছর আজ বিচারের অপেক্ষায় পিতা-মাতা এএসপির বিরুদ্ধে ‘মারধরের’ অভিযোগ: নেপথ্যে বাসে টিকিট জালিয়াতি ও যাত্রী হয়রানি নওগাঁয় বিএনপির দুই নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে অনড় বাংলাদেশ: আসিফ নজরুল এনসিপিকে ১০ আসন ছাড়ার প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললো জামায়াতে ইসলামী

অন্তত দেড় হাজার মোবাইল ব্যবসায়ী বে-আইনি কার্যক্রমে জড়িত: এমআইওবি

Chif Editor

অনলাইন ডেস্ক :- দেশের প্রায় ১২ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র এক হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যবসায়ী ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) নিয়ে বে-আইনি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘এনইআইআর’র হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়।

এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সাইফুদ্দিন টিপু, কোষাধ্যক্ষ ইমরান উদ্দীন এবং বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হারুন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া এনইআইআর ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব, ভোক্তা সুবিধা এবং দেশের মোবাইল ফোন ইকোসিস্টেমে এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এমআইওবি জানায়, সরকার ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত করতে এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সময়োপযোগী ও ইতিবাচক। এসব নীতিগত উদ্যোগ মোবাইল ফোন শিল্পে দীর্ঘদিনের অনিয়ম কমাতে এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়ন দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে।

আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিটিআরসি কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুরসহ যেকোনো সহিংস ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে স্মার্টফোন শিল্প ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এনইআইআর কার্যকর হওয়ার ফলে অবৈধ, নকল ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, যা সরাসরি ভোক্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

একই সঙ্গে অবৈধ আইএমইআই ব্যবহার বন্ধ হওয়ায় ফোন ক্লোনিং, প্রতারণা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এই উদ্যোগ বাজারে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।এমআইওবি’র তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এই খাতে সরাসরি ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি ডিলার, ডিএসআর, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রয়সহ আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক সক্রিয়ভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে এই শিল্প থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল আয় করছে।
তবে এমআইওবি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানায়, এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কিছু অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবসায়ীর সহিংস ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় একটি সীমিত গোষ্ঠী যারা দেশের প্রায় ১২ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র এক হাজার থেকে দেড় হাজার স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের দাবি মেনে নেওয়ার পরও বে-আইনি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে।এমআইওবি জানায়, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বহিরাগতদের এনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর, শিশুদের ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোনের দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

সংগঠনটির মতে, আইনবহির্ভূত এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে না, বরং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) ওপর নির্ভরশীল স্মার্টফোন শিল্পে এ ধরনের অস্থিরতা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এই অনিশ্চয়তা শুধু চলমান বিনিয়োগ নয়, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবাহ ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আগ্রহকেও নিরুৎসাহিত করতে পারে। যেকোনো নীতিগত মতভেদ শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে সমাধান হওয়া উচিত এবং বৈধ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ জরুরি।

Leave a Reply