
শিল্পী আক্তার, রংপুর ব্যুরো :- গণভোটে অবশ্যই সবাইকে অংশ নিতে হবে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার, মন্ত্রণালন ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, যদি সত্যি সংস্কার চান তাহলে উত্তরটা আমাদের “হ্যাঁ” বলতে হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ওই একই দিনে যে দ্বিতীয় ভোটটা দেবেন, সেটা হচ্ছে গণভোট। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষমতার যে বাঁক আছে, সেই বাঁকটাকে শাসকগোষ্ঠীর থেকে জনগণের দিকে বাঁক খাওয়ানোর একটা সিদ্ধান্তের সময়। এই গণভোটে অবশ্যই সবাই অংশ নেবেন এবং যদি সত্যি সংস্কার চান তাহলে উত্তরটা আমাদের হ্যাঁ বলতে হবে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারী) বিকালে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নীলফামারী জেলা প্রশাসন আয়োজিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভার আগে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় হতে উপদেষ্টার নেতৃত্বে গণভোট প্রচারে জেলা শহরে এক বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। যা জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মতবিনিময় সভার স্থান জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে এসে শেষ হয়।
উপদেষ্টা ড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও দেশের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই গণভোট। তিনি বলেন, আসন্ন গণভোট জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য দেশের টেকসই পরিবর্তন চাইলে গণভোটে হ্যাঁ সুচক ভোটে অংশগ্রহণ করা সকল সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
ওই সভায় উপদেষ্টা আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতাসীনদের কথায় পরিচালিত হয়েছে। এবার সুযোগ এসেছে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের বুঝে নেওয়ার। নিজেদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গণভোটে অংশ নেওয়ার বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, শুধু রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ করা উন্নয়ন না। মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া, মত প্রকাশের অধিকার দেওয়াই আসল উন্নয়ন।
উপদেষ্টা আরো বলেন, গণভোটে ১১ টি প্রশ্ন রয়েছে। প্রত্যেক প্রশ্নে আপনাদের চাওয়া, আপনাদের মনের কথার প্রতিফলন ঘটেছে। দেশের নিরপেক্ষ ও গুণী লোকদের মাধ্যমে গঠিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো আপনাদের অধিকার নিশ্চিতের জন্য। তাই গণভোটে অংশ নেওয়া এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রায় দেওয়া সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
দেশকে এগিয়ে নিতে পরিবর্তনের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এ-দেশে আর কোন একচ্ছত্র ক্ষমতার দানব তৈরি করতে না চাইলে গণভোটে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান’এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোঃ আবু জাফর বক্তব্য রাখেন।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী সেনাবাহিনী ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মাহমুদ শরীফ, জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ লুৎফুল কবির সরকার ও নীলফামারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আলিফ সিদ্দিক প্রান্তর। মতবিনিময় সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।
এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, আমরা সকলে মিলে দেশ পরিচালনা করতে চাই। দীর্ঘদিন ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখার সুযোগ আর দেয়া যাবে না। জনগণের ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার এবারই মোক্ষম সময়।, আপনারা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজের পরিবার ও সমাজকে সচেতন করতে হবে। এ সময় তিনি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য উপস্থিত সকলকে গণভোটে অংশে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।



