
অনলাইন ডেস্ক :- দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত অফিস করছেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়াও প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে সশরীরে অফিস করে যাচ্ছেন। সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ২০১ নম্বর কক্ষে তার অফিস। সেই অফিসে বসছেন নিয়মিত।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে পৌঁছান। সচিবালয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও যোহরের নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় প্রধান্য দিয়ে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে আছর এবং মাগরিব নামাজ পড়েন তারেক রহমান। ওই দিন সচিবালয়েই জাতির উদ্দেশ্য দেওয়া তার ভাষণ রেকর্ড করা হয়। পরে সাড়ে সাতটার দিকে বের হন।
শুধু অফিস দিনে নয়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস করবেন বলে জানান তারকে রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তিনি তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম অফিস করেন। তৃতীয় দিন সকাল সকাল সচিবালয়ে ঢোকেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৯টা ৫ মিনিটে অফিসে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সচিবালয়ে তৃতীয় দিন ২০১ নম্বর কক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও সচিবের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, ১১টায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ১২টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষ ২১৬ নম্বর কক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বিষয়ে সভা, সাড়ে ১২টায় ২০১ নম্বর কক্ষে স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম খানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের সূচি ছিল। এরপর ২টায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মকর্তারা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন। বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি তৈরির ওপর গিুরুত্ব দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সচিবালয়ে সক্রিয় উপস্থিতি সরকারের কর্মতৎপরতার ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আগামী দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করবেন এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে উপস্থিতি উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।


