
নিজস্ব প্রতিবেদক :- প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ—পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাসসের এমডি ও প্রায় ৪০০ সাংবাদিকের নামে জাল স্বাক্ষর দেখিয়ে বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালার খাতে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে ৩৯ জনকে অস্থায়ী নিয়োগ দেন। এদের অনেকেই তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলে দাবি করা হয়েছে। স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপত্তি জানালে তাদের বদলি, প্রেষণ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি—এই দুই দিনে চারটি আলাদা কর্মশালার নামে মোট ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা বিল দেখানো হয়। “তারুণ্যের উৎসব-২০২৫”, “জুলাই গণ অভ্যুত্থান”, “গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শন” এবং একটি চলচ্চিত্র-প্রদর্শনীর নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০০ সাংবাদিকের ভাতা ও যাতায়াত খরচের নামে জাল স্বাক্ষর, এবং কয়েকজন আলোচকের সম্মানীর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা অন্য হিসাবে স্থানান্তর, টেন্ডার ছাড়াই ভবন সংস্কারের নামে কোটি টাকার বিল পরিশোধ এবং বিদেশ সফরের আগে অনুমোদনবিহীন চেক ইস্যুর অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, এসব অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে ভুয়া বিল-ভাউচারের কপি সংযুক্ত রয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আরও বড় অঙ্কের দুর্নীতি বেরিয়ে আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মহাপরিচালক বা পিআইবি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে।


