নিজস্ব প্রতিবেদক:- রাজধানীতে অভিনব কৌশলে প্রতারণার ফাঁদ পেতে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা যেন এখন সুপরিচিত বিষয়। এমনি এক প্রতারণার সন্ধান পাওয়া গেছে রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউন এলাকায়। এখানে নানান শ্রেনীর মানুষের বসবাস, এরমধ্যে বিত্তশালী লোকজন উত্তরাতে বেশি থাকেন। এই এলাকায় ছিনতাইকারী থেকে শুরু করে বড় বড় প্রতারকচক্র ফাঁদ পেতে বসে আছে।
অনুসন্ধানে, রেজাউল করিম খান নামে একজন অভিনব প্রতারকের সন্ধান পাওয়া গেছে। ছদ্মবেশী এ প্রতারক বিভিন্ন সময় পরিচিত ব্যবসায়ীদের লাভে টাকা বিনিয়োগ করে থাকেন। প্রয়োজনে লাভের বিনিময়ে টাকা নিয়ে এমনই এক প্রতারনার শিকার নজরুল ইসলাম তালুকদার নামে এক ব্যবসায়ী।
নজরুল ইসলাম তালুকদার ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে রেজাউল করিমের থেকে ৯ লক্ষ টাকায় ৬ মাস পরে ১০ লক্ষ টাকা পরিশোধে টাকা নেন, জামানত হিসেবে ১০ লক্ষ টাকার অনুকূলে ২ টি চেক দেন রেজাউল করিমকে। ৬মাস পর টাকা পরিশোধ না করলে রেজাউল করিম টাকা তুলতে ব্যাংকে গেলে টাকা না পেয়ে চেক ছিড়ে ফেলার নামে শুরু করেন প্রতারণা।
এবিষয় ভুক্তভুগি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানায়, ২০১৮ সালে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে প্রতারক রেজাউল করিমের কাছ থেকে ৯ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১০ লক্ষ টাকার অনুকূলে ( মধুমতি ব্যাংক CD- 0593488 ও CD- 0593489 ) বিনিময়ে ৫ লক্ষ করে দুই চেকে ১০ লক্ষ টাকা দেই। ৬ মাস পর রেজাউল করিম চেক নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দেন। ব্যাংক থেকে তাকে বলা হয় একাউন্টে টাকা নাই। বিষয়টি উনি আমাকে জানায় এবং বলেন চেক দুটি নাকি তিনি রাগে ছিড়ে ফেলেন। আমি উনাকে আমার ব্যবসার অবস্থা জানাই এবং কয়েকদিন সময় চেয়ে নেই। তারপর তিনি আমাদের অফিসে এসে বলেন, রাগে আমি চেক দুটি ছিড়ে ফেলেছি। এখন আমার টাকা দাও তা নাহলে চেক দাও। তখন আমি রেজাউল করিম সাহেবকে চেক নং ( CD- 055413) ১০ লক্ষ টাকা আর একটি চেক দেই। পূর্বের চেক দুটির কোন সুরাহা না করেই কৌশলে রেজাউল আমার কাছে থেকে ৩ টি চেকে ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে নেয়।
কিছুদিন পর রেজাউল করিম আমার নামে আদালতে Act – 1818 এর ১৩৮/১৪০ ধারায় মামলা করেন। মামলা নং -(২২/২০১৯,২৩/২০১৯ ও ২৪/২০১৯)।
হঠাৎ কিছুদিন পর রেজাউল সাহেব আমাকে আপোষের প্রস্তাব দেন এবং আমাদের অফিসে এসে বলেন উনি খুবই বিপদে আছেন আজকের মধ্যে তার ১০ লক্ষ টাকা লাগবে। ১০ লক্ষ টাকা জোগার করতে না পারলে তার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। এবং তার আত্মহত্যা ছাড়া কোন রাস্তা নেই। এ টাকাটা দিলে সে আদালতের মামলা গুলো প্রত্যাহার করে নিবে। তখন আমি একজন আইনজীবীর মাধ্যমে ১০০ টাকার তিনটি ষ্টাম্পে আপোষনামা লিখে স্বাক্ষর দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা নগদ বুজিয়া দেই। তারপর থেকেই সে টানবাহানা শুরু করে। আদালত থেকে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য আমার কাছে থেকে ৩০ হাজার টাকাও নেয়। কিন্তু নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকে বলে জানান এ ভুক্তভোগী।
তিনি আরও জানান, গত ১৮ জুন ২০২৫ ইং তারিখে রেজাউল করিম তার মোবাইল ফোন ( 01711615719) নাম্বারে কল দিয়ে পূনরায় ১০লক্ষ টাকা চেয়ে বিভিন্ন হুমকি ধমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ টাকা না দিলে মামলা প্রত্যাহার করবেনা বলে ভয় দেখান।
এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি জিডি করা হয়েছে যার নম্বর: ১৩৪৭ তারিখ: ১৪/০৭/২০২৫ইং।
এবিষয় প্রতারক রেজাউল করিমের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।