শিরোনাম
পারস্য উপসাগরে ঢুকলেই যেকোনো মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হবে: ইরান ইরান নিয়ে সংলাপের আহ্বান এরদোয়ানের পশ্চিম পাপুয়ায় ৬ হাজার বছর ধরে বিলুপ্ত ভাবা পোসাম ও গ্লাইডারের সন্ধান প্রতিশোধ নিতে হামলার জন্য নতুন মার্কিন স্থাপনা খুঁজছে ইরান ‘সরকারি ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার দায়িত্ব নিতে হবে’ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে উত্তর কোরিয়া এবার যুদ্ধবিমান মোতায়েন করলো তুরস্ক ফুটবল স্টেডিয়ামে হামলা নিয়ে উত্তেজনা—ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া ইরান যুদ্ধে দারুণভাবে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের ইরানে বেসমারিক মানুষ হত্যা করছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভ

তারেক রহমানের আগমন, দেশের রাজনৈতিক আকাশে আগাম বসন্তের হিল্লোল

Chif Editor

অনলাইন ডেস্ক :-  কালের আবর্তে সতেরোটি বছর কম সময় নয়। এক দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর প্রতীক্ষার প্রহর শেষে, অবশেষে নির্বাসনের দেয়াল ভেঙে দেশের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গত ১২ ডিসেম্বর, গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারেক রহমানের আসার ব্যাপারে যে ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তা এখন বাস্তবে রূপ নেয়ার অপেক্ষায়।

সুদূর টেমস নদীর তীর থেকে রাজনীতির সেই পরিচিত মুখ এবার ফিরছেন নিজস্ব উঠোনে। সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানে এক ভিন্ন হাওয়া বইছে এখন বাংলার প্রকৃতিতে। ঋতুতে শীতের আগমনী বার্তা থাকলেও, দেশের রাজনৈতিক আকাশে যেন আগাম বসন্তের হিল্লোল। স্বৈরাচারের পতন পরবর্তী দেশের রাজনীতিতে যে বসন্তের পূর্বাভাস, তাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রায় দুই দশকের প্রবাস জীবন শেষে সেই চিরচেনা বাংলার মাটির সোদা গন্ধ তার নিঃশ্বাসে স্বাধীনতার আমেজকে হয়তো আবারও পুনরুজ্জীবিত করবে। এই মাটিতেই জন্ম, এখানেই বেড়ে ওঠা। আরও কত কত স্মৃতি দোলা দেবে তার মনিকোঠায়।

নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে তারেক রহমান ছিলেন অনেকটা রূপকথার চরিত্রের মতো—যাকে কেবল শোনা কথায় কিংবা অপপ্রচারের ধুম্রজালেই চিনেছে তারা। এবার সেই ধোঁয়াশা কাটবে। তরুণ প্রজন্ম তাদের নেতাকে দেখবে রক্তমাংসের অবয়বে, শুনবে তার আগামীর পরিকল্পনা। তার এই প্রত্যাবর্তনে তারুণ্যের চোখেমুখে তাই এক ভিন্ন উদ্দীপনার ছটা।

তবে, এই প্রত্যাবর্তনের পথ কি শুধুই কুসুমাস্তীর্ণ? শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা—দেশের মাটিতে পা রেখে তিনি যেন তথাকথিত সুবিধাবাদী বা ‘দুধের মাছি’দের বলয়ে আটকা না পড়েন। বরং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতোই যেন মিশে যান সাধারণ মানুষের ভিড়ে, মাটি ও মানুষের খুব কাছাকাছি।

রাজনীতির মাঠে যারা এতদিন প্রতিপক্ষ কিংবা সমান্তরাল পথের যাত্রী ছিলেন, তারাও স্বাগত জানিয়েছেন তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জনকল্যাণে একসাথে কাজ করার আশাবাদ তাদের কণ্ঠে। তবে একইসাথে তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, দীর্ঘ অনুপস্থিতি আর দেশের আমূল পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট—সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সামনে অপেক্ষা করছে এক নতুন চ্যালেঞ্জ।

অনেকে মনে করেন, দেশে ফেরার পর একদিকে মায়ের অসুস্থ অবস্থা, অন্যদিকে দলের শৃঙ্খলা ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে তারেক রহমানের জন্য।

ইতিহাসের চাকা ঘোরে নিজস্ব গতিতে। যে মাটি থেকে একদিন তাকে বিদায় নিতে হয়েছিল বিষাদগ্রস্ত হৃদয়ে, আজ সেই মাটিতেই তিনি ফিরছেন বসন্তের বাতায়ন হয়ে। তবে এই ফেরা যেন কেবল ক্ষমতার অলিন্দে ফেরা না হয়, এই ফেরা যেন হয় মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নেওয়ার—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

Leave a Reply