প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ২, ২০২৬, ২:১৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ১, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
যশোরে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন ‘বাতিল’, বিএনপির স্থগিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই আসনের আরও পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে ত্রুটি পাওয়া গেছে।
অপর দিকে যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়নপত্র দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বাতিল হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) যশোর-১ (শার্শা) ও যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে। যাচাই-বাছাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান জানান, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স না থাকায় যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা যায়, মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের সিআইবি প্রতিবেদনে ২০ বছর আগের একটি ক্রেডিট কার্ডে বকেয়া দেখানো হয়েছে। যদিও তিনি বকেয়া পরিশোধের প্রমাণপত্র দাখিল করেছেন, তবে নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসার আরও জানান, এ বিষয়ে মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ নির্বাচনী আপিল আদালতে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বকেয়া ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে জমা দিলে তা পুনরায় যাচাই করা হবে। সে ক্ষেত্রে তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই আসনে মোহাম্মদ ইসহক নামের একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। যশোর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ইসহক দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ ছাড়া ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। স্বাক্ষরের সামঞ্জস্য না থাকায় বাতিল হয়েছে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র। জহুরুল চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।
এই আসনে বিএনএফ প্রার্থী শাসছুল হকের মনোনয়ন পেন্ডিং রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রণী ব্যাংকের আপত্তির কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফিরোজ শাহের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটনের প্রার্থিতা পেন্ডিং রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্যে গরমিল পেয়েছেন। পাশাপাশি তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির (স্ত্রী) তথ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে। এসব ত্রুটি সংশোধন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিলে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত বলে গণ্য হতে পারে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান জহির ও শাজাহান গোলদারের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের কাগজপত্র না থাকায় তাদের প্রার্থিতা পেন্ডিং রাখা হয়েছে। ত্রুটি সংশোধনের জন্য তাদের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে রিটার্নিং অফিসের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, যে সব ত্রুটির কারণে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল বা পেন্ডিং রাখা হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। এ জন্য ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
প্রধান সম্পাদক : জুয়েল খন্দকার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম রাশেদ হাসান
নির্বাহী সম্পাদক : গাজী ওয়ালিদ আশরাফ সামী
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হট-লাইন নাম্বার : ০১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ০১৯৬৭৯৯৯৭৬৬.
Copyright © 2026 দেশপত্র. All rights reserved.