শিরোনাম
ফটিকছড়ি ভূজপুর থানার বিশেষ অভিযানে ৯টি দেশীয় একনলা বন্দুক উদ্ধার কুমিল্লার ভাটপাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ দুই শিশু ও পরিবারের পাশে বিএনপি নেতারা সেই সিরিয়াল কিলার সম্রাটের আসল পরিচয় প্রকাশ, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ঢাকার ১৩টি আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন আটজন, আছে হেভিওয়েট নামও জাতীয় পার্টি থেকে ১৯৬ প্রার্থী নির্বাচনে বৈধতা পেয়েছেন: জি এম কাদের বিএনপির অভিযোগে জামায়াত-এনসিপিসহ ৪ দলকে সতর্কতা বিমানবন্দর এলাকায় হর্ন বাজালেই জরিমানা, নামছে মোবাইল কোর্ট নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের আবাসনের জন্য কোটি টাকা বরাদ্দ বিপদে-আপদে কড়াইলবাসীর পাশে থাকার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

আদালতে ক্ষমা চাইলেন পাবনা-০৩ আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী

Chif Editor

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, পাবনা প্রতিনিধি :-  নির্বাচনি আচরণবিধি প্রকাশ্যভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজের মুখে পাবনা-০৩ (ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন অবশেষে নির্বাচন সংক্রান্ত অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সামনে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
একইসঙ্গে ভবিষ্যতে তিনি ও তার অনুসারীরা আচরণবিধি মেনে চলবেন এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে হাজির হন তিনি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগাম প্রচারণা চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পাবনা-০৩ (চাটমোহর,ভাঙ্গুড়া,ফরিদপুর) আসনের এই বিএনপি প্রার্থী কে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় নির্বাচন সংক্রান্ত অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। নোটিশ পাওয়ার পর সোমবার (২০ জানুয়ারি) নির্ধারিত সময়ে তিনি কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন।

এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পাবনা-০৩ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং পাবনা সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক সঞ্চিতা ইসলাম শোকজ নোটিশ জারি করেন। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, প্রার্থী হিসেবে তার পক্ষে ফেসবুকে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট চেয়ে স্লোগানসহ স্থিরচিত্র ও ভিডিও নিয়মিতভাবে প্রচার করা হচ্ছিল, যা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসে।

নোটিশে ‘লিখন সরকার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি সহ একাধিক আইডি থেকে এ ধরনের প্রচারণা চালানোর তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোটের তিন সপ্তাহ আগে কোনও প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর আইনি কোনও সুযোগ নেই। ফলে এই অনলাইন তৎপরতা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৮-এর সরাসরি, সুস্পষ্ট এবং গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল।

শুনানিতে হাজির হয়ে তুহিন অভিযোগ অস্বীকারের কোনও পথ না পেয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে তিনি নিজে অথবা তার কোনও সমর্থক যেন কোনোভাবেই আচরণবিধি লঙ্ঘনে জড়িত না হন সে বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন।

তবে বিচারিক কমিটির সামনে ক্ষমা চেয়ে অঙ্গীকারনামা দিতে স্বীকার করলেও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তুহিনের নিযুক্ত আইনজীবী ও পাবনা জেলা জজ আদালতের জিপি আরশেদ আলম সাংবাদিকদের কোনও তথ্য দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। বরং দায়িত্বশীল প্রশ্নের জবাবে তিনি অসৌজন্যমূলক ও আপত্তিকর আচরণ করেন।

একই ধরনের আচরণ করেন স্বয়ং প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে অসহোযোগিতামূলক আচরণ করেন এবং কোনও মন্তব্য না করেই দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে গণমাধ্যমের প্রতি এমন রুক্ষ ও অবজ্ঞাসূচক মনোভাব তার গণতান্ত্রিক মানসিকতা, রাজনৈতিক পরিপক্বতা এবং জবাবদিহিতার অঙ্গীকারকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

Leave a Reply