
শিল্পী আক্তার, রংপুর ব্যুরো :- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ষড়যন্ত্র করে দিনাজপুরের মানুষকে বারবার বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা আর আর বঞ্চিত করতে চাইনা সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোট সরকার গঠন করলে দিনাজপুরে সিটি করপোরেশন হবে।
স্পেশালিস্ট মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। দক্ষ চিকিৎসক, টেকনোলজিস গড়ে তোলা হবে। শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আর কোন বেকার থাকবেনা, মানুষের জান-মালের ও মা-বোনদের নিরাপত্তা জোরদার করে মানুষের জীবনে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে তোলা হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত বিশাল এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির’ বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে তিনি হেলিকপ্টার যোগে পঞ্চগড় থেকে হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টার যোগে দিনাজপুর বড়ময়দানের হেলিপ্যাডে এসে নামেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বলতে চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি যেমন বিগত কয়েক দিনে পালটে গেছে, ক্ষমতা পেলে দিনাজপুরসহ দেশের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য পাঁচটি বছর আমাদের যথেষ্ট হবে। আমরা যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি, তাহলে দেশের চেহারা বদলে যাবে ইনশাল্লাহ। এই এলাকার মাটি উর্বর, লিচু,আম উপন্ন হয়,এই এলাকা পিছিয়ে থাকার কোন প্রশ্নই উঠে না। ষড়যন্ত্র করে, বঞ্চিত করে, পিছনে রাখা হয়েছে। আমরা এই ষড়যন্ত্র ভেঙে চুরমার করে দিবো।
ড. শফিকুর রহমান বলেন, বলেন, জনগণ এবার গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করতে মুখিয়ে রয়েছে। জামায়াত কারও কাছ থেকে চাঁদা নেবে না, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ট্যাক্সের ভাইরে দেশ চলে। ট্যাক্সের বাইরে কিন্তু একটা বেসরকারি ট্যাক্স আছে। প্রত্যেকটা মুদির দোকানে, রাস্তাঘাটে, হকারের কাছে, এমনকি রাস্তার পাশে বসে যে ভাই-বোনটি ভিক্ষা করে, তার কাছ থেকেও একটি ট্যাক্স নেওয়া হয়। ওই ট্যাক্সের টাকা আমরা আমাদের জনগণের হাতে তুলে দিতে চাই না। ওই ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হবে ইনশাল্লাহ।
জনসভায় মঞ্চে থাকা দিনাজপুরের ছয়টি আসনের পাঁচটিতে জামায়াত ও একটি আসনে জোটের এনসিপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন দলটির আমির। এ সময় তিনি জামায়াতের পাঁচ প্রার্থীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। সেই সময় জোটের অন্যকে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবান জানান।
দুপুর আড়াইটায় মঞ্চে উঠলেও দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে বক্তৃতা শুধু করেন।বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে শেষ করেন বক্তব্য। প্রায় আড়াই ঘন্টা ব্যাপী বক্তব্যে ডা.শফিকুর রহমান আরো বলেন,ভোট ডাকাতদের কারণে বিগত ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি এবং দেশের মানুষ নতুন কোনো ভোট ডাকাত দেখতে চায় না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আর এই দেশে ফ্যাসিবাদের ছায়াও দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ এখন যদি নতুন কোনো জামা পরে আমাদের সামনে আসে, ৫ আগস্ট যে পরিণতি হয়েছিল, সেই নতুন জামা পরা ফ্যাসিবাদের একই পরিণতি হবে। যারা নিজেদের দলের লোকদের চাঁদাবাজি, দখল–বাণিজ্য, মামলাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, পাথর মেরে লোক হত্যা, গাড়িচাপা দিয়ে লোক হত্যা থেকে বিরত রাখতে পারবে, তারাই জনগণকে আগামীর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। যারা এগুলো পারবে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই দেখাক, জাতি তাদের মতলব বুঝতে পারবে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ১০-দলীয় সমঝোতার জোটকে বিজয়ী করার মানে আধিপত্যবাদ, চাঁদাবাজ, দখলদার, ফ্যাসিবাদ, ব্যাংক ডাকাত, মা-বোনদের ইজ্জতের ওপরে যারা হাত দেয়, তাদের বিরুদ্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোট যুবকদের দক্ষ করে তোলা হবে।
জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত নারীদের সম্মানের জায়গায় রাখতে চায়। কর্মক্ষেত্রে তারা সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। রাস্তাঘাটে তাদের চলাফেরায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করছে জামায়াত।
দিনাজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম,বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়স সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ।
পরে তিনি হেলিকপ্টার যোগে দিনাজপুর থেকে ঠাকুরগাঁও এর উদ্দেশ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে চলে যান।


