শিরোনাম
কেন্দ্র দখলের প্র্যাকটিস ম্যাচ শুরু হয়ে গেছে: হাসনাত নরসিংদীতে চাঁদার জন্য সাংবাদিকদের পিকনিক বাসে হামলা, আহত ১০ আ.লীগ কখনোই বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনি: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ দুর্নীতিবাজ দখলবাজ চাঁদাবাজদের লালকার্ড দেখাবে : জামায়াত আমির রংপুরে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস পালিত ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র থেকে ১৪১৫টি নদ-নদী পরিদর্শন শুরু করল ‘নোঙর’; স্বতন্ত্র নদীসম্পদ মন্ত্রণালয়’ গঠনের দাবি নওগাঁয় আশার আলো অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পরও প্রচারণায় সক্রিয় সেই জামায়াত নেতা চার লক্ষাধিক প্রবাসীর ভোটদান সম্পন্ন: পোস্টাল ব্যালট হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির প্রার্থী আরিফুলের

হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির প্রার্থী আরিফুলের

Chif Editor

অনলাইন ডেস্ক :- নির্বাচনি প্রচারণার সময় ঢাকা-১৮ আসনের জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম ও তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করে সবার গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক সংবাদ এ দাবি জানান আরিফুল।

সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় খিলক্ষেত পূর্ব থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মিখাইল হোসেন বলেন, সকাল আনুমানিক ৯টায় রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন ডুমনী নূরপাড়া এলাকায় ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় স্থানীয় নূরপাড়া আলীম মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ দেখে তারা মাদ্রাসা পরিদর্শন ও সৌজন্য সাক্ষাত করেন। তখন স্থানীয় ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দিদার মোল্লার নেতৃত্বে সেলিম মিয়া, মো. ইসরাফিল, মো. নাহিদ, রানা আহমেদসহ একদল সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়। এ সময় দিদার মোল্লা অন্যান্য হামলাকারীদের “কেউ যেন বেঁচে ফিরতে না পারে” এ রকম নির্দেশ দেয়।

তিনি বলেন, হামলায় নূরপাড়া আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরকতউল্লাহ, তার বড় ভাই হেদায়েতুল্লাহসহ মোট ১২ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—বরকতউল্লাহ, হেদায়েতুল্লাহ, আলমগীর হোসেন, রিয়াজুল হোসেন, মাসুম আলম, আজিম হোসেন, ইউনুস মিয়া, শাব্বির ও বাবলু।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তার নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে জোটের নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়মিতভাবে বাধা দিয়ে আসছে। গত দুই দিনের মধ্যেই আবদুল্লাহপুরে একজন জামায়াত কর্মীর ওপর হামলা করে গুরুতর আহত করা, খিলক্ষেত বরুয়া এলাকায় নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনের সময় মব সৃষ্টি করে বাধা প্রদান, তুরাগের বামনারটেকে নির্বাচনী অফিসের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং নিকুঞ্জ এলাকায় মহিলা জামায়াত কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনার সৃষ্টি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গতকাল এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তার পরদিনই এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।আরিফুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি ও সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির অবাধ্য সন্ত্রাসীদের হাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, দলীয় কর্মী, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একজন এমপি প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে এমন হামলা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সহিংসতায় রূপ দেওয়া গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মারাত্মক হুমকি।

তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে দুটি দাবি উত্থাপন করেন—

১. হামলার নেতৃত্বদানকারী দিদার মোল্লাকে সাংগঠনিক সকল দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।২. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক দিদার মোল্লাসহ সকল হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

এছাড়া এ ঘটনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে যথাযথ তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ২২ তারিখ প্রচারণা শুরুর পর চারদিনে বিভিন্ন ব্যতিক্রমী কর্মসূচির মাধ্যমে এনসিপি জনমনে জায়গা করে নিচ্ছিল এবং এনসিপির প্রতিটা মিছিল ছোট অবস্থায় শুরু হয়ে গণমিছিলে রূপ নিচ্ছিল। এ অবস্থায় ভীত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা এই ন্যাক্কারজনক হামলা করে। তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে আহ্বান করেন সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করে জনতার কাতারে এসে ভোটের রাজনীতি করতে।

শেষে আরিফুল ইসলাম দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সহিংসতা ও সন্ত্রাসের রাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমেই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।

Leave a Reply