প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ২৭, ২০২৬, ১:০৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পরও প্রচারণায় সক্রিয় সেই জামায়াত নেতা
অনলাইন ডেস্ক :- বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো. শামীম আহসানের বিরুদ্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক হয়েও সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
এই জামায়াত নেতাই সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে পরে দুঃখ প্রকাশ করেন।
গত ২২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১১০ বরগুনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি-০২ এর বিচারক, বরিশালের সিভিল জজ শেখ ফারহান নাদীম এ সুপারিশ করেন। অভিযুক্ত মো. শামীম আহসান বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বরগুনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হাসান আহমেদ নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে মো. শামীম আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের পক্ষে কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আহসান সরাসরি প্রচার-প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি মো. শামীম আহসানকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেয়। তবে তিনি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হয়ে কেবল লিখিত জবাব দাখিল করেন। পরবর্তীকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিচারিক কমিটির বিচারক শেখ ফারহান নাদীম নির্বাচন কমিশনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সুপারিশ করেন।
নির্বাচন কমিশনে পাঠানো সুপারিশপত্রে বলা হয়, মো. শামীম আহসানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগটি নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধির আওতাভুক্ত এবং অনুসন্ধানযোগ্য। সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে কমিটির অভিমত।
এ দিকে অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের পরও মো. শামীম আহসান নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ জানুয়ারি বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সে সময় তিনি বলেন, ডাকসু একসময় ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ ছিল এবং ইসলামী ছাত্রশিবির সেটির অবস্থা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। ওই বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে তিনি পরে একটি ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিয়ে মো. শামীম আহসান বলেন, ‘আমি একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। সেখানে এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অনেকেই তো নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেছে।’ নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সুপারিশ এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি। নির্বাচন কমিশন থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রধান সম্পাদক : জুয়েল খন্দকার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম রাশেদ হাসান
নির্বাহী সম্পাদক : গাজী ওয়ালিদ আশরাফ সামী
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হট-লাইন নাম্বার : ০১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ০১৯৬৭৯৯৯৭৬৬.
স্বত্ব © ২০২৬ দেশপত্র