শিরোনাম
সংসদ নির্বাচনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সেল গঠন, ফোন করা যাবে যেসব নম্বরে নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মোতায়েন হচ্ছে বিএনসিসি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশে পৌঁছেছে এক লাখ ৯৫ হাজার পোস্টাল ব্যালট বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব দেশ পুনর্গঠন করা: তারেক রহমান রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড: শফিকুর রহমান এপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনার নাম, চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য ফাঁস জাতীয় পার্টি করে ভুল করেছি, ধানের শীষে ভোট দিন: ময়নুল হক শরিয়া বাস্তবায়নের অঙ্গীকার না থাকায় জামায়াত জোটে যাইনি: চরমোনাই পীর আমি নির্বাচিত হলে সকল দলের রাজনৈতিক কর্মীরা শান্তিতে ঘুমাতে পারবে: শামীম কামাল ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির জানাজা ও দাফন করা হবে: হাদনাত আব্দুল্লাহ

রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড: শফিকুর রহমান

Chif Editor

অনলাইন ডেস্ক :- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এক হাতে মায়ের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে, আরেক হাতে দেওয়া হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। তিনি বলেন, “রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড। চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ ও নারীদের ইজ্জত হরণকারীদের আপনারা রুখে দেবেন।”

আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীতে জামায়াত আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জামায়াতের পক্ষে জনজোয়ার সৃষ্টি হওয়ায় নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, যুবকদের বেকারভাতা দেওয়ার কথা বলে অসম্মানিত করার চেষ্টা চলছে। “আমরা যুবকদের অসম্মানিত করতে চাই না,” বলেন তিনি। পাশাপাশি অতীতের মতো ‘কাসুন্দি’ টেনে জাতিকে বিভক্ত না করার কথাও উল্লেখ করেন।

জামায়াত আমির বলেন, এতদিন তারা ‘হ্যাঁ ভোট’-এর কথা বলেনি। “ঠেলার নাম বাবাজী—এখন ধীরে ধীরে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার কথাও বলছে। আমরা দেখতে চাই, তাদের মুখের কথা যেন বুকের কথা হয়,” বলেন তিনি।

‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’-এর পরিবর্তে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মাধ্যমে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন। এ সময় জামায়াতের আমিরের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ স্লোগানে সমাবেশ প্রকম্পিত করে তোলেন।

এর আগে একই দিন বিকেল সাড়ে চারটায় সীতাকুণ্ডের ঐতিহাসিক সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ১১ দলীয় জোটকে ভোট দেবে এবং পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি জনগণ একটি চাঁদাবাজমুক্ত দেশ দেখবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। “গোটা বাংলাদেশ বলে দিয়েছে, তারা আর চাঁদাবাজ চায় না।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে যে আন্দোলনের গাড়ি চলা শুরু হয়েছিল, তা জাসুতে সাময়িকভাবে থেমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই গাড়ি আবারও চলতে থাকবে। আধিপত্যবাদের গোলামদের সঙ্গে বাংলাদেশের আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে, তার প্রতিফলন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিন দেখা যাবে। যারা মা-বোনদের গায়ে হাত দিয়েছে ও অপমান করেছে, জনগণ তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জুলাই মাসের ঘটনাবলির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এই মায়েরা সেই মায়েরা—যাদের গায়ে হাত তোলায় সারাদেশে আগুন জ্বলে উঠেছিল। গুলির মুখেও তারা পিছু হটেনি। তারা ভয় পায় না, রুখে দিতে জানে। ১২ তারিখ তারা রুখে দেবে।”

বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের কোনো বিশ্রাম নেই উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তারা কোনো চোখ রাঙানিকে ভয় পায় না। তিনি দাবি করেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, জাফলং থেকে সুন্দরবন—৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়ে সারা বাংলাদেশে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। “বাংলাদেশ আজ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে,” বলেন তিনি।

নারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা মায়ের জাতি, শ্রেষ্ঠ জাতি। আমাদের লালন-পালন করেছেন, বুকের দুধ খাইয়েছেন—এই ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না।” তিনি বলেন, জামায়াত নারীদের মাথার তাজ বানিয়ে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, আগে চাঁদাবাজদের স্লোগান ছিল—“আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব।” কিন্তু সময় বদলে গেছে। জুলাই মাস সেই ব্যবস্থার কবর রচনা করেছে। “এখন তোমার ভোট তুমি দাও, আমার ভোট আমি দিই। তোমার পাওনা তুমি নাও, আমার পাওনা তুমি নিও না,” বলেন তিনি।

ভোটের দিন ব্যালটে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি ১১ দলীয় জোটকে ভোট দেবে।

Leave a Reply