ভাইরাল ছবিতে সামনে একটি লাঙ্গল রেখে জানাজা পড়ার দৃশ্য দেখা যায়। পোস্টদাতারা দাবি করেছেন, এটি রংপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে জানাজা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, কারা আয়োজন করেছেন—তা নিশ্চিত করা যায়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়েও পোস্টদাতা বা আয়োজকদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।’ সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন অনেকে।
সামাজিক মাধ্যমে ছবিটি ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেখছেন, কেউ বলছেন এটি প্রতিপক্ষকে ব্যঙ্গ করার কৌশল।
ফেসবুক ও এক্স (টুইটার)-এ হাজারো শেয়ার ও কমেন্টে বিতর্ক চলছে। একজন নেটিজেন লিখেছেন, ‘লাঙলের জানাজা হোক বা না হোক, জাপার এই ফলাফল দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রমাণ করে।’
অন্যজন লিখেছেন, ‘এটা অসম্মানজনক। রাজনীতিতে এমন ব্যঙ্গ সহ্য করা যায় না।’
জাতীয় পার্টির ফলাফলের চিত্র
ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনেও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। রংপুরে জাপার ঘাঁটি ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাড়ি। কিন্তু এবার সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রংপুরের ৬টি আসনে ভোট গণনায় ৪টিতে এগিয়ে জামায়াত, ১টিতে এনসিপি, ১টিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে। জাপা কোনো আসনে জয় পায়নি।
দলীয় সূত্র জানায়, জাপার প্রতিষ্ঠার পর থেকে রংপুরে তাদের শক্তিশালী অবস্থান ছিল, কিন্তু এবারের ফলাফল দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ফল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাপার এই পরাজয় দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্বের অভাব এবং ভোটারদের মধ্যে নতুন বিকল্পের খোঁজের ফল।
অনলাইন ডেস্ক :- জাতীয় পার্টির (জাপা) ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির বড় ধরনের ভরাডুবি হয়েছে। সারাদেশে ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দিলেও কোথাও জয় পাননি লাঙল প্রতীকের প্রার্থীরা। দল প্রতিষ্ঠার চার দশকের ইতিহাসে এমন বিপর্যয় আগে দেখেনি জাতীয় পার্টি।