শিরোনাম
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে যাচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্বে সিরাজ উদ্দিন মিয়া, প্রজ্ঞাপন শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে: তারেক রহমান মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে কারা, শপথের আগেই জোর আলোচনা নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতি দেওয়া পোস্ট সরিয়ে নিলেন জামায়াত আমির ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ জনগণকে কনভিন্স করাই আমাদের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’: তারেক রহমান কুমিল্লা-৬ আসনে নির্বাচিত এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে ফুলের শুভেচ্ছা: তরুণ প্রজন্মের বিএনপি নেতৃবৃন্দ”রা আমার দেশ রিপোর্টার ও জাতীয় যুবশক্তি এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ গ্রেপ্তার তিস্তা বাচাই আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক দুলু নির্বাচিত হওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ

মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে কারা, শপথের আগেই জোর আলোচনা

Chif Editor

অনলাইন ডেস্ক :- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ হলেও শপথ এখনও বাকি। তবে এরই মধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নতুন সরকার ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কে মন্ত্রী হচ্ছেন, কে পাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়—দলীয় অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ রাজনৈতিক মহলেও চলছে নানা জল্পনা। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব দেরি হলেও আগামী ১৬ কিংবা ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির সংসদ নেতা হচ্ছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি মিলিয়ে ৫ জেলার ২৩টি আসনের মধ্যে ২১টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। চট্টগ্রাম জেলায় রয়েছে সর্বোচ্চ ১৬টি আসন, যার মধ্যে ১৪টিতে জয় পেয়েছে দলটি। তবে ফটিকছড়ি ও সীতাকুণ্ড আসনে ফল প্রকাশ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় নেতাদের।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের মিশেলে। অতীতে দলের প্রতি ত্যাগ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁরা মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পাবেন। দল থেকে যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁদের মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক যাঁরা বিশেষজ্ঞ, তাঁরাই এবার মন্ত্রিসভায় অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় অনির্বাচিত বিশেষজ্ঞ ও জোটসঙ্গীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে।চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনায় অতীতের মতো এবারও এ অঞ্চল প্রাধান্য পাবে। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ ১০ জন স্থান পেয়েছিলেন। ওই সময় পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান, এম. মোরশেদ খান ও প্রয়াত এল কে সিদ্দিকী।

প্রতিমন্ত্রী ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ, প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন মনি স্বপন দেওয়ান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন প্রয়াত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম।বর্তমানে মন্ত্রিসভায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে কে কে থাকতে পারেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা ও জরিপ চলছে। এসব আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিজয়ী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কক্সবাজার-১ আসনে বিজয়ী সালাহউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিজয়ী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বান্দরবান আসন থেকে বিজয়ী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী ও রাঙামাটি থেকে বিজয়ী দীপেন দেওয়ান।

নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া জানান, অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও বন্দরনগরী গুরুত্ব পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুধু পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে নতুন সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত সড়কগুলোর মানসম্মত উন্নয়ন এবং একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। অতীতে সালাহউদ্দিন আহমেদের উদ্যোগে নেওয়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনাটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, দেশের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামের মর্যাদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার যোগ্য ও দক্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেবেন। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

Leave a Reply