নিজস্ব প্রতিবেদক :- ঢাকা মহানগরের সন্নিকটে অবস্থিত শিল্পসমৃদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ জেলা আবারও মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্বশূন্য থাকলো। আজ গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করলেও তালিকায় নারায়ণগঞ্জের কোনো সংসদ সদস্যের নাম দেখা যায়নি।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে চারবার নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কালাম। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের মুস্তাফিজুর রহমান দিপু। দুইবার নির্বাচন করে প্রথমবারের মতো সংসদে গেছেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের নজরুল ইসলাম আজাদ এবং আজহারুল ইসলাম মান্নান।
মন্ত্রিত্ব নিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত জেলার কোনো এমপি মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার ইতিহাস নতুন নয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের আব্দুর মতিন চৌধুরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একই সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রথম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের অধ্যাপক রেজাউল করিম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
আওয়ামী লীগ আমলে দীর্ঘদিন মন্ত্রিত্বহীনতা
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ এককভাবে ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে কেউ মন্ত্রিত্ব বা হুইপ পদ পাননি। ২০১৪ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জেলার পাঁচ এমপির কেউ মন্ত্রী হননি।
তবে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় এলে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের গোলাম দস্তগীর গাজী পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হলেও জেলার কোনো এমপি মন্ত্রী হননি, যদিও একজন হুইপ পদে নিয়োগ পান।
এ সময় আওয়ামী লীগ আমলে নারায়ণগঞ্জে দুইজন এমপি টানা চারবার এবং দুইজন এমপি টানা তিনবার নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিত্ব বঞ্চিত থাকার অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক মহলে।
রাজধানী-সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল, রপ্তানি শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও নারায়ণগঞ্জ বারবার মন্ত্রিসভায় উপেক্ষিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে। স্থানীয় রাজনীতিবিদরা মনে করছেন, মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব না থাকলে জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো বরাদ্দ এবং নীতিনির্ধারণে জেলার প্রভাব কমে যেতে পারে।
জনমত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন,“নারায়ণগঞ্জ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা হলেও বারবার মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব না পাওয়া হতাশাজনক। এতে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক গুরুত্বে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।”
নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব সীমিত থেকেছে। এবারের নতুন মন্ত্রিসভায়ও জেলার কোনো এমপি স্থান না পাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জ কি কেন্দ্রীয় ক্ষমতার রাজনীতিতে উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে?
প্রধান সম্পাদক : জুয়েল খন্দকার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম রাশেদ হাসান
নির্বাহী সম্পাদক : গাজী ওয়ালিদ আশরাফ সামী
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হট-লাইন নাম্বার : ০১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ০১৯৬৭৯৯৯৭৬৬.
স্বত্ব © ২০২৬ দেশপত্র