
বিশাল রহমান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শিখা ছিলেন দুর্দিনের মিছিলের মুখ। বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিয়ে আসতে দেশব্যাপী লাখ লাখ নেতা কর্মীদের ত্যাগ আর নির্যাতন, নিপীড়নের কাহিনি সবারই জানা। ঠাকুরগাঁও শহরের গণমাধ্যমকর্মীদের যে কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় অতীতে ছাত্রদলের মিছিল মিটিং এ থাকা সামনের লাইনে বুক চিতিয়ে লড়াই করা সাহসী নারী কর্মীটি কে? সবাই এক বাক্যে শিখার নামটি বলবে।
জেলা শহর ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্র দলের জেলা কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শিখা আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোতে ছিলেন আন্দোলনের সামনের কাতারে। হরতাল, অবরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোতে পুলিশের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সাহসীদের মধ্যে অন্যতম শিখা।
দল ক্ষমতায় আসার পর সুযোগ সন্ধানী, হাইব্রিড আর নতুনদের ভীড়ে শিখাদের পিছনে ফেলে রেখে বিএনপি কি সত্যিকার সফলতা পাবে? শুধু শিখা নয় ঠাকুরগাঁও জেলার মাঠ পর্যায়ের ছাত্রদল ও যুবদলের অনেক ত্যাগী পরিক্ষিত নেতাদের কোনঠাসা করতে একটি মহল নানা পরিকল্পনা করছে। মাঠে এতদিন যাদের দেখা যায়নি তাঁরা এখন ক্ষমতার পাদপ্রদীপে আসার অপচেষ্টায় লিপ্ত। দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক নেতারা এখন দুর্দিনের কর্মীদের চেয়ে বসন্তের কোকিলদের নিয়ে বেশি ব্যস্ত রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ছাত্রদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিনিধিকে বলেন, অতিতে মিছিলের সামনের লাইনে থাকা শিখার মতো মেয়েদের মুল্যায়ন না করে এখন নেতাদের আত্মীয় স্বজন,মামাতো ফুপাতো ভাইবোনদের সামনে নিয়ে এসে নেতারা দলের ক্ষতি করছেন। তিনি আওয়ামী লীগের নিকট থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহবান জানিয়ে দলটির সকল পর্যায়ের নেতাদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দলের দুর্দিনের কর্মীদের মুল্যায়ন করা না হলে এর পড়িনাম ভালো হবে না।
একই কথা বলেন, ঢোলারহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ইশারুল হক।তিনি বলেন, বিএনপি যখন কমিটি করার লোক খুঁজে পায়নি তখন আমরা দলের দায়িত্ব নিয়েছি।অথচ পাঁচ আগষ্টের পর কাউন্সিল ডেকে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা টাকাওয়ালাদের প্রার্থী বানিয়ে আমাদের পদ পদবী কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিগত ১৬ বছর দলের পদে থাকায় মামলা,মোকদ্দমায় নিজে অর্থনৈতিকভাবে কপর্দকশূণ্য হয়ে যাওয়ার কারণে কাউন্সিলদের টাকা দিয়ে প্রতিপক্ষ ভোট কিনে আমাদের মতো লোকদের পরাজিত করা হয়েছে।
দলের কতিপয় নেতা এসবে মদদ দিয়েছে। ইশারুল হক ওসব মদদদাতা নেতাদের প্রতি প্রশ্ন উত্থাপন করেন এতদিন আপনাদের ওসব টাকাওয়ালা নেতারা কোথায় ছিল? মাঠ পর্যায়ে এরকম বহু অভিযোগ ত্যাগীদের। ত্যাগী আর দুর্দিনের কর্মীদের মুল্যায়নে সঠিক উদ্যোগ না নিলে আগামীতে বিএনপি পরীক্ষিত কর্মীর সংকটে পরবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। জেলা ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শিখার মতো সাহসীদের তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়া সময়ের দাবি বলে রাজনৈতিক মহল মনে করেন।



