
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর রাজধানীর ধানমন্ডিতে আবাহনী মাঠে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদে আমাদের মধ্যে তর্ক হবে, বিতর্ক হবে, বহুমত থাকবে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমরা ঐকমত্যে থাকব।’ তিনি আরও বলেন, রাজনীতি স্থির নয়; সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ইশতেহার, গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচি পরিবর্তন করতে হয়। এনসিপি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, এনসিপি একটি তারুণ্যনির্ভর ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল। জনগণ তাদের গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে সংসদে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াতের এ নেতা আরও বলেন, তরুণদের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে শহীদদের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে।
এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান ছিল—‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। সূচনা বক্তব্য দেন শহীদ আহনাফের বোন অ্যাডভোকেট সাইয়েদা আক্তার। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত ও দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা।
সমাপনী বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এনসিপির লক্ষ্য। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে গত এক বছরে এনসিপির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। পরে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সানাউল্লাহ খান। দেশ ও জাতির কল্যাণ, রমজানের রোজা কবুল এবং সব প্রকার আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ থেকে দেশকে হেফাজতের জন্য দোয়া করা হয়।
ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ (এবি পার্টি) ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে ইনসাফভিত্তিক ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন নেতারা। বক্তারা বলেন, নব্য প্রতিষ্ঠিত দল হিসেবে এনসিপির উত্থান, সংসদীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ছয়টি আসনে জয় তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েই শেষ হয় অনুষ্ঠান।



