কুমিল্লা প্রতিনিধি :- কুমিল্লা সদরের পাঁচথুবী ইউনিয়নে বামইল গ্রামে পরকীয়ার জেরে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মৃত্যুর পর থানার ওসি সহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা দুই লক্ষ টাকার কথা বলে রফাদফা করে অপমৃত্যুর মামলা করে লাশ দাফন করিয়েছেন, কিন্তু লাশ দাফনের পরও নিহতের পরিবার সেই টাকা পায়নি।
নিহত জোহরা (২৫) বামইল গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী রায়হান (৩০) একই গ্রামের ছবির মিয়ার পুত্র এবং পাঁচথুবী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়দের দাবি, রায়হানের পাশের বাড়ির হীরার(২০) সাথে পরকীয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই জোহরার উপর অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়েছিল।
জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে হীরার বিয়ে হলেও রায়হানের পরামর্শে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ও নেতা মিজান হীরাকে তার স্বামীর সংসার থেকে ছাড়াছাড়ি করতে বাধ্য করে। হীরা ও তার বাবা ফজল মিয়া দাবি করেন, রায়হানের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও শিবের বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, গত ১২ মার্চ এর আগ পর্যন্ত স্বামী রায়হান ও তার পরকীয়া প্রেমিকা হীরা জোহরাকে কয়েকদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে দুর্বল করে জোরপূর্বক তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। তার পর জোহরা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন যে তাকে মুখে জোরপূর্বক বিষ ঢেলে দেওয়া হয়েছে, তার গলা ও বুক জ্বলে যাচ্ছে। জোহরা তার পরিবারের লোকজনের সহায়তায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু ৩ দিন পর ১৫ মার্চ চিকিৎসারত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত পূর্বক ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, মৃত্যুর পর আবুল কাশেম চেয়ারম্যান, মিজান ও রায়হান তাদেরকে দুই লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলে অপমৃত্যুর মামলা করার জন্য চাপ দেন। তারা আরও দাবি করেন, কাশেম খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসিনের একনিষ্ঠ কর্মী পরিচয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ারকে এই মর্মে হুমকি দিয়েছিলেন যে, যদি ওসি তার কথা মত কাজ না করে তবে মন্ত্রীকে দিয়ে তাকে বদলি করিয়ে দেবেন।
পরিবারের লোকজন আরও বলেন, তাদেরকে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাফন করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং তাদেরকে অপমৃত্যুর মামলার কাগজে সই করানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল যে এটা ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু পরে তারা জানতে পারেন যে, সেই কাগজে জোহরাকে পাগল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো কাগজও দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনা সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক শ্যামবাজারের জেলা প্রতিনিধি আবুল কাশেম ও মিজানের হামলার শিকার হন। পরে র্যাব-১১ এর দুটি গাড়ি নিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
ওসি তৌহিদুল আনোয়ার প্রথমে ফোনে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। কিন্তু পরে জোহরার ভাই সজল মিয়ার সামনে তাকে মুখোমুখি করানো হলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, তার টেবিলে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, যা প্রমাণ করে নিহতের পরিবারের উপরিউক্ত বক্তব্য গুলো সত্য। তিনি বলেন, সাংবাদিককে ফোন করার সময় তার এ বিষয় মনে ছিলো না।
বিজ্ঞ আইনজীবীরা বলেন, অপমৃত্যুর মামলা নেওয়াতে পরিবার আর থানায় মামলা করার সুযোগ নেই, তবে তারা সরাসরি কোর্টে মামলা করতে পারেন।
লাশ দাফনের পর মিজান নিহতের পরিবারের কাছে এসে এইমর্মে হুমকি দিয়েছেন যে, যদি তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলেন বা আইনি পদক্ষেপ নেন তবে তাদের পুরো পরিবারকে উচ্ছেদ পূর্বক ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
স্থানীয়রা মন্ত্রীর কর্মী পরিচয়ে অত্যাচার করা এ সকল লোকের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক : জুয়েল খন্দকার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম রাশেদ হাসান
নির্বাহী সম্পাদক : গাজী ওয়ালিদ আশরাফ সামী
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হট-লাইন নাম্বার : ০১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ০১৯৬৭৯৯৯৭৬৬.
স্বত্ব © ২০২৬ দেশপত্র