ইসমাইল চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:- ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায় ও দূর্নীতি প্রতিরোধ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম জোনের টিম সদস্য ও সাবেক জেলা আমির অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান। তিনি বলেন, মুসলিমদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নামাজ ও যাকাত প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন, তাদের সবাই ছিলেন মুসলিম। কিন্তু এসব কাজ কেউ করেননি। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাউজান সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উত্তর জেলার সূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং নির্বাচনী পরিচালক ডক্টর আব্দুল হামিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি রিদুয়ান শাহের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন জেলার টিম সদস্য অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন রাউজান সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আমির আলহাজ্ব শাহাজাহান মঞ্জু।
ফ্যাসিস্ট আ’লীগ সরকারের সমালোচনা করে আমিরুজ্জামান বলেন, আগে রাতের নির্বাচন, ডামি নির্বাচনের মাস্টারমাইন্ড ও মানবতাবিরোধী পলাতক শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত ও জামায়াতের সাত দফা বাস্তবায়ন করতে হবে; তারপর নির্বাচন। এর আগে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবেনা বলে তিনি সরকারকে সতর্ক করেন।
প্রধান বক্তা অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি থাকবে না, সন্ত্রাস থাকবেনা, নিয়োগ বানিজ্য থাকবে না, অন্য ধর্মাবলম্বীদের জায়গা দখল হবে না, জুলুম নিপীড়ন হবে না। সেজন্য “দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে, দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে।
বিশেষ অতিথি চট্রগ্রাম -৬(রাউজান) আসনে এমপি প্রার্থী জননেতা শাহজাহান মন্জু বলেন, আমাদের নির্বাচনী কাজ একটা বড় ইবাদত। আমাদের উদ্দেশ্য কুরআনের রাজত্ব বাস্তবায়নের জন্য আপ্রান চেষ্টা করা। এতে কুরআনের রাজত্ব বাস্তবায়ন না হলেও আমরা ব্যক্তি হিসেবে সফল হবো।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডক্টর আবদুল হামিদ চৌধুরী বলেন, সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে রাউজানে সাধারন মানুষকে জাগাতে হবে। সেন্টার কমিটি, ওয়ার্ড কমিটিসহ সকল কমিটিকে মজবুত করে নির্বাচনের সকল কেন্দ্রকে পাহারা দিতে হবে। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেককে অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করতে হবে।
সমাবেশে রাউজান নির্বাচনী আসনের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং রাউজানের সকল ভোট কেন্দ্রের নির্বাচনী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।