
অভিষেক চন্দ্র রায়, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি :- ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে এক কৃষকদল নেতার মিথ্যা বানোয়াট মামলায় মনগড়া ও মিথ্যা প্রতিবেদনের কারণে সাংবাদিক কারাগারে যাওয়ায় ঠাকুরগাঁও পুলিশ বুরো ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)এর তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকরা।
গত শনিবার সন্ধায় রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় এ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মাসুদ রানা পলক , সম্পাদক খুরশিদ আলম শাওন,সিনিয়র সাংবাদিক ছবিকান্তদেব,আনিসুর রহমান, মোবারক আলী,ফারুক আহাম্মদ সরকার , বিপ্লব , বিজয় রায়, সবুজ ইসলাম , নাজমুল হোসেন , আবদুল্লাহ আল নোমান । মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়ে সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
এর আগে রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি মাসুদ রানা হঠাৎ করে কোটিপতি বনে যাওয়ার বিষয় রাণীশংকৈল উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়।
এর পেক্ষিতে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানসহ তার বক্তব্য নিতে গেলে তিনি রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবকে উড়িয়ে দিতে চাওয়ার একটি রের্কড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে। বিষয়টি সাংবাদিকরা নজরে নিয়ে তার শাস্তির দাবীতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করেন।
এর পরিপেক্ষিতে তিনি নিজেকে আড়াল করার জন্য এবং সাংবাদিকদের বিপদে ও ভয়ভীতিতে রাখার কৌশল হিসাবে ৬ জন সাংবাদিকের নামে সাইবার আইনে মামলা ও রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ তার ভাই খাইরুল ইসলামকে জড়িয়ে একটি চাঁদাবাজি ছিনতাই মামলা ঠাকুরগাঁও আদালতে দায়ের করেন।
মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য আদালত ঠাকুরগাঁও পিবিআইকে দায়িত্ব দেন। পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে পিবিআই উপ-পরির্দশক মিলন ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয় মামলাটি তদন্ত করতে। সেসময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয় মামলাটি শতভাগ মিথ্যা এটি স্থানীয় প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষ প্রযর্ন্ত অবগত। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত করার আহবান জানানো হয়।
কিন্তু পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা নিরপেক্ষ তদন্ত না করে এক পক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন ঠাকুরগাঁও আদালতে দাখিল করে। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে গত ২৪ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রে মাহাবুব উল ইসলামের সমনের পেক্ষিতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। এ সময় সাংবাদিকদের পক্ষের আইনজীবি ঠাকুরগাঁও বার কাউন্সিলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদনটি সাংবাদিকের বিপক্ষে যাওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে নিয়েছে। এক সপ্তাহে কারাভোগের পর গত ১ জানুয়ারী রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি জামিনে মুক্ত হন।
রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, তার ভাইকেসহ তাকে এ মামলায় আসামী করেছেন । এছাড়াও আরো ৭জনকে আসামী করে মামলাটি করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে আমরা সবাই মিলে তাকে ছিনতাই চাঁদাবাজির চেষ্টা করেছি। সব চেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে সঙ্গীয় অনেক আসামীর সাথে গত কয়েকমাসও তার দেখা হয়নি, এবং কি মামলার বাদীর সাথেও মুখোমুখি পযর্ন্ত দেখা হয়নি। তাছাড়া তিনি নিজেও কিডনির অস্ত্রপাচার করে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। তিনি দাবী করেন মামলাটি পুরোপরি সাজানো ও মিথ্যা। পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা মিলন মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে সম্পুর্ণ মিথ্যা ঘটনাকে সত্য রুপে রুপান্তর দিয়েছেন। তিনি মামলাটি পুনরায় তদন্তের দাবী জানান।
এ বিষয়ে জানতে ঠাকুরগাঁও পিবিআইয়ের উপ-পরির্দশক মিলন ইসলামকে মুঠোফোনে বলেন , আমি তদন্ত করে যা পেয়েছি তা আদালতে দাখিল করা করেছি ।
প্রধান সম্পাদক : জুয়েল খন্দকার
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম রাশেদ হাসান
নির্বাহী সম্পাদক : গাজী ওয়ালিদ আশরাফ সামী
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ১০/৩, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০
হট-লাইন নাম্বার : ০১৯৮৮৬৬৩৭৮২, ০১৯৬৭৯৯৯৭৬৬.
Copyright © 2026 দেশপত্র. All rights reserved.