
অনলাইন ডেস্ক :- দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে মারা গেছে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বিনতি (৮)। এবার তার তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। সবশেষ দেওয়া বার্ষিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলও হয়েছে। রোল নম্বর ২২ থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে সে। তবে আয়েশার শুধু নামটুকুই থেকে গেছে। নিজের সাফল্যও দেখে যেতে পারেনি সে। তার এমন সাফল্যে অভিভাবক, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মুখে হাসি ফোটার কথা থাকলেও এখন সবার চোখ অশ্রুসিক্ত।
দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেও তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে রোল কলের সময় আয়েশাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। রোল দুই কল করার সঙ্গে সঙ্গে আয়েশা আর বলে উঠবে না প্রেজেন্ট স্যার। কারণ সেতো আর নেই। আগুনে ঝলসে যার মৃত্যু হয়, সে কি আর বলবে উপস্থিত স্যার? তার অসাধারণ সাফল্য আজ তাই শোকের বার্তা হয়ে থেকে গেলো।
রোববার (৪ ডিসেম্বর) রাতে আয়েশার বাবা বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়েটাতো নেই। যখন শিক্ষক তার ফলাফলের কথা জানিয়েছে, তখন বুকফাটা কান্না ছাড়া আর কিছুই আমার নেই। ফলাফল দিয়ে এখন আমি কী করবো।’
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে দুটি দরজার দুটি তালা মেরে পেট্রোল ঢেলে বেলালের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। সে ঘরসহ ছোট্ট আয়েশা পুড়ে মারা যায়৷
জানা গেছে, পাকা ভিটির টিনসেট ঘরের তিনটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন বেলাল হোসেন, তার স্ত্রী নাজমা বেগম, তিন মেয়ে ও দুই ছেলে৷ আগুন লাগার পর বেলাল তার স্ত্রী, চার বছর বয়সী ছেলে নাজমুল ইসলাম, চার মাস বয়সী ছেলে নজরুল ইসলাম, বড় মেয়ে স্মৃতি ও মেজো মেয়ে সামিয়া আক্তারকে ঘরের টিনের বেড়া উঁচু করে কোনো রকমে বের করতে পেরেছিলেন। আকুতি শুনেও আগুনের তীব্রতায় আয়েশার কাছে যেতে পারেননি, সবার চোখের সামনেই আগুনে পুড়ে মারা যায় আদরের কন্যা।
ঘটনার সময় শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয় বড় মেয়ে সালমার। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।
এক আগুনে দুই মেয়েকে হারিয়ে বেলাল হোসেন ও নাজমা বেগম দম্পতি শোকের সাগরে নিমজ্জিত। মেজো মেয়ে সামিয়া শরীরের ২ শতাংশ পুড়েছিল, তবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি৷
বেলাল হোসেন বলেন, আমার দুটি সন্তান একসঙ্গে পুড়ে মারা গেছে। অনেক আদর যত্নে তাদের বড় করেছি। এক আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে। ছোট মেয়েটা আব্বু আব্বু বলে ডাকলেও তাকে বাঁচাতে পারিনি। তার সেই ডাক আমাকে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণা দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আয়েশার জানাজা ও দাফনের সময় তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। বড় মেয়েকে ঢাকায় নেওয়ার সময়ও যেতে পারেননি। আইসিইউতে মারা যাওয়ার খবর পেয়েও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেননি তিনি। দুই মেয়েকে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, মামলাটি তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ আটক নেই।



