
শিল্পী আক্তার, রংপুর ব্যুরো :- উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলা শীতে কাঁপছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র হিমেল বাতাসে সকাল থেকেই প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ ও দরিদ্ররা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। দিন দিন শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন জীবনও প্রভাবিত হচ্ছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে— দিনাজপুরে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রংপুরে ১২.৬, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১২.৮, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১২.৮, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১৩.৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩ ও গাইবান্ধায় ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর্দ্রতার কারণে কুয়াশা কাটছে না, ফলে শীত আরো বাড়ছে।
শীতের তীব্রতায় নিম্নআয়ের মানুষ পুরোনো কাপড় কিনে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। রিকশাচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই, তাই পুরোনো জ্যাকেট দিয়ে কাজ চালাচ্ছি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি দামের বৃদ্ধির কারণে পুরোনো কাপড়ের দামও বেড়েছে, ফলে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ পড়ছে। শীতের কারণে শ্রমজীবী মানুষের আয়ও কমে গেছে।
অনেকেই খড়কুটো, কাঠ বা পুরোনো কাগজ জ্বালিয়ে নিজেকে গরম রাখার চেষ্টা করছেন। শৈত্যপ্রবাহে হাসপাতালেও চাপ বাড়ছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, ১ থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শিশু ও বয়স্কসহ প্রায় ২০০ রোগী শীতজনিত জটিলতা নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এ সময় শীতজনিত কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় কুয়াশা কাটছে না এবং শীত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে। রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, শীত মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উপজেলার শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরো সহায়তা বাড়ানো হবে।



