শিরোনাম
‘জুলাই বার্তাবীর সম্মাননা’ পেলেন সাংবাদিক ইসমাইল সরদার কক্সবাজারে পিআইডির ৫ দিনের সঞ্জীবনী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব তালাবদ্ধ, সাংবাদিকদের প্রতীকী প্রতিবাদ হারুয়ালছড়িতে অবৈধ মাটি কর্তনে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা নওগাঁয় বেগম খালেদা জিয়া’র রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ভারতের ভেন্যুতে খেলবে না বাংলাদেশ: রিজওয়ানা হাসান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই মুসাব্বিরকে হত্যা: মির্জা ফখরুল মুসাব্বির হত্যা: দেশজুড়ে বিক্ষোভ ডেকেছে স্বেচ্ছাসেবক দল সরকারের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতেই গণভোট: আলী রীয়াজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৪ অধ্যাদেশ অনুমোদন

লালমনিরহাট, পাটগ্রাম শিক্ষা অফিসারের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ নিয়ে তেলে সমাতি কারবার

Chif Editor

এমএ রহমান, স্টাফ রিপোর্টার :- লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলায় দেশব্যাপী জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার সরকারি প্রজ্ঞাপন থাকলেও পাটগ্রাম মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গাফিলতি এবং দায় সারাভাবে সরকারি কর্মসূচিতে শুভংকরের ফাঁকি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দাখিল করলেও এখন পর্যন্ত সঠিক সমাধান হয়নি বরং মাছ দিয়ে শাক ঢাকানোর অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দেশব্যাপী মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক ও সম পর্যায়ের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহের ২০২৬ সালের শিক্ষা সপ্তাহ উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের সময়সূচি নির্ধারণ করে দেয়া হয় জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখ। কিন্তু পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত তারিখের আগেই নিজের খেয়াল খুশিমতো পরিচিত কিছু লোকজনকে দিয়ে কয়েকটি ইভেন্টের বিচারক নির্ধারণ ও নির্বাচন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য পত্র প্রদান করার বিধান থাকলেও এখানে এর সম্পূর্ণ ব্যত্যয় ঘটেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক দুর্বি সন্ধি ও মোঘলীয় আমলের কায়দায় পুরস্কার ভাগাভাগি করে নেয়ার এক রমরমা গোপন রহস্য।

২০২৫ সালের অনুষ্ঠিত এইচ এস সি পরীক্ষায় পাটগ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা উপজেলা মিলে সর্বোচ্চ কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাউরা পুনম চাঁদ ভুতোরিয়া কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সালের প্রতিষ্ঠা লগ্নের পর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থিত হওয়ার পরেও প্রায় পাঁচটি ইউনিয়নের প্রান্তিক এবং মধ্য আয়ের মানুষের সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে সুনামের সহিত একের পর এক অনন্য উদাহরণ ও কৃতিত্ব স্থাপন করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি হতে প্রতিবছর প্রায় 3 শতাধিক শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে, এবং পাশের হার পাটগ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তুলনামূলক এগিয়ে আসছে, অদম্য গতিতে দীর্ঘদিন থেকে। গত ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের কারণে শিক্ষা সপ্তাহ জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপন করা সম্ভব হয়নি বিধায়, 2025 সালের শিক্ষা সপ্তাহ উদ্‌যাপনের জন্য ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার দেশব্যাপী থানা/ উপজেলা ( মহানগরী থানা সমূহ) ৮ জানুয়ারি উপজেলা পর্যায়ে সকল ইভেন্টের উপর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক মন্ডলীগণের মধ্য থেকে সেরা নির্বাচিত করবেন এবং যা ইতি পূর্ব থেকে হয়ে আসছিলো। সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের ইস্যুকে পুঁজি করে শুধু মাত্র পাটগ্রাম শহরের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু ব্যক্তিদের কে বিভিন্ন কমিটিতে বিচারক হিসেবে এককভাবে মনোনয়ন প্রদান করে নির্ধারিত তারিখের আগেই অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি, প্রচন্ড কুয়াশা এবং ঠান্ডার মধ্যেই অনেকটা ২০১৮ সালের ফ্যাসিস্ট সরকারের রাতের ভোটের মতো কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

উল্লেখ্য – ২০২৩ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহেও বাউরা পুনমচাঁদ ভুতুরিয়া কলেজ নয়টি ইভেন্টের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে এবং উপজেলা পর্যায়ে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পদক পায়। বর্তমান প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের নানাবিধ প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত যাতায়াত করার সুযোগ ও সময়ের অভাবে নিয়মিত পরিদর্শন অনেকটা ভার্চুয়ালি ভাবেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। উল্লেখ্য – বাউরা পুনমচাঁদ ভুতুরিয়া মহাবিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ( ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) জনাব বসিরুল ইসলাম আকন্দ জানান – আমরা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহ শিক্ষায় বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ইতি পূর্বেও আমরা বিভাগ থেকে রানার্সআপ হয়ে আসার কৃতিত্ব আমাদের আছে। এছাড়াও ২০২৩ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আমরা উপজেলা পর্যায়ে নয়টি ইভেন্টে পুরস্কৃত হই এবং জেলা পর্যায়ে চারটিতে পুরস্কৃত হই। ৭ তারিখ দুপুর ১:১৫ মিনিটে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট ফোন করলে তিনি জানান নির্ধারিত সময়ের আগেই উনারা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অদ্য অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি সমাপ্ত করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের অংশগ্রহণকারী গণের মধ্যে চরম হতাশা এবং ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং সেই প্রেক্ষিতে কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক আব্দাহিয়ুর রহমান আপেল অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এবং পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় কে ফোন করে বিষয়টি বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি আরো জানান – ইভেন্টের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রোভার শিক্ষক নির্বাচনের যে ক্যাটাগরি আছে সেখানে যে কলামগুলো আছে তার প্রত্যেকটি কলাম পূরণ করার মত ক্ষমতা এবং যোগ্যতা পাটগ্রাম উপজেলার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শরীরচর্চা শিক্ষক অথবা শারীরিক শিক্ষা বিভাগের প্রভাষকগণের নেই। বিষয়টি তিনি স্পষ্টভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের সাথে বর্ণনা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় অভিযোগটি আমলে নিয়ে কিছু ডকুমেন্ট ওনার সরকারি নাম্বারের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে বলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তা পাঠিয়ে দেয়। এলাকার সুধী, শিক্ষানুরাগী, সচেতন মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ – আমাদেরকে যদি উপজেলা পর্যায়েই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অন্তরায় সৃষ্টি করা হয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাহলে আমরা জাতীয় পর্যায়ে কিভাবে অবদান রাখতে পারি সেটা জাতির কাছে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মাহবুবুর রহমান বলেন – আমরা প্রায় অর্ধ যুগ থেকে উপজেলা পর্যায়ে এবং জেলা পর্যায়ে সহশিক্ষা সহ বিভিন্ন ইভেন্টে এবং খেলাধুলা সহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে আসছি নিয়মিত এবং পাশাপাশি পুরস্কৃত হচ্ছি আমাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ‌। কিন্তু এবার কি কারণে আমাদেরকে বঞ্চিত করা হলো বিষয়টি আমাদের কাছে একটু রহস্যজনক মনে হচ্ছে !! কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রী মহাদেব চাঁদ ভুতোরিয়া মিডিয়ার সামনে কথা বলতে না চাইলেও কথার একপর্যায়ে বলেই ফেললেন – এই কলেজটা একটি নার্সারীর চারার মত লালন পালন করে আজকে রংপুর বিভাগের শিক্ষা বিস্তারের একটি আইকন হিসেবে উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দণ্ডায়মান। অথচ এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যয়নকারী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচ্ছলতা অত্যন্ত নাজুক এবং প্রান্তিক আয়ের মানুষের সন্তানদের আলোর মুখ দেখানোর জন্যই দীর্ঘদিন থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসতেছি আমরা। গত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে আমরা উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব স্থাপন সহ শতকরা ৯০ ভাগ ইভেন্টের বিজয়ী হই। অথচ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদ্‌যাপন করার আগে বিচারক মন্ডলী এবং দায়িত্বে কারা থাকবেন সে সকল মিটিংয়ে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কখনোই গুরুত্ব দেয়া হয় না। শুধু মাত্র শহরকেন্দ্রিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মুখ চেনা কিছু ব্যক্তিকে বারবার একই দায়িত্ব দিয়ে দায়সারা ভাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস নিজেদের কে কিছু মানুষের কাছে প্রিয়ভাজন হয়ে আস্থা অর্জন করে চলে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকে। সুধী মহলের মধ্যে প্রশ্ন; যোগ্য ব্যক্তিরা যোগ্যতার বিচার করবে নাকি মুখ দেখে দধি বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া হবে !

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মোবাইল নাম্বারে ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং অফিসের কর্মরত একজন ব্যক্তি বলে ফেললেন, সরকার ৮ তারিখের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করতে যে নির্দেশনা দিয়েছে আমরা তার পূর্বেই তা সমাপ্ত করলাম, কিন্তু অন্য প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আসলে সময় স্বল্পতার কারণে আমরা সব প্রতিষ্ঠানকে সঠিক সময়ে অবগত করতে পারি নাই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে অবশ্যই এর সুষ্ঠু এবং যথোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

Leave a Reply