
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশাল নগরীতে প্রকাশ্যে আইন ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জবরদখল করে ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের তীর বরিশাল জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এস এম নজরুল হক নিলুর দিকে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বরিশাল নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি রেকর্ডভুক্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক কার্যালয় নির্মাণ শুরু করা হয়। জমির মালিক পক্ষ বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপায় না পেয়ে জমির মালিক সরকারি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে আইনি সহায়তা চান।
খবর পেয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মাহফুজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেন। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে,পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরই সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।সোমবার সকালে পুনরায় নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দিনদুপুরে প্রকাশ্যে আইনকে অবমাননা করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর রাজনৈতিক কার্যালয় নির্মাণ জনমনে ভয় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
রেকর্ডিও জমির মালিক, সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নিজামুল হক নিজামের ছেলে তামিম হাসান বলেন,এটি আমাদের নিজস্ব রেকর্ডভুক্ত জমি। কোনো অনুমতি ছাড়াই জোর করে কার্যালয় নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে আবার কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বরিশাল জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এস এম নজরুল হক নিলু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,কোনো জমি দখল করা হয়নি। আগে থেকেই থাকা একটি ঘর শুধুমাত্র মেরামত করা হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন,জমির মালিকের কোনো অনুমতি ছাড়াই কীভাবে একজন ব্যক্তি বা দল নিজেকে ভাড়াটিয়া দাবি করে মেরামতের নামে নির্মাণকাজ শুরু করতে পারে? বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে রহস্যজনক ও সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের সরাসরি নির্দেশ অমান্যের এই ঘটনা শুধু একটি জমি দখলের অভিযোগেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। প্রকাশ্যে আইন অমান্যের এমন নজির চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


